এস আলমের ১৭ হাজার কোটি টাকার ১,৯৩৬ একর জমি জব্দ
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
ঢাকার একটি আদালত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তার পরিবার এবং তাদের ঘনিষ্ঠ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মালিকানাধীন মোট এক হাজার ৯৩৬ একর জমি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। জব্দ করা সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভ্যাকেশন বেঞ্চের বিচারক মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের মুখপাত্র আখতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের সহকারী পরিচালক তানসিন মুনাবিল হক আদালতে এ আবেদন জমা দেন।
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত : দুদকের আবেদনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, তার পরিবার এবং তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিজেদের নামে ও প্রক্সি (ছায়া ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান) ব্যবহার করে বেআইনিভাবে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে- এসব ঋণ পরবর্তীতে অপব্যবহার ও পাচারের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিস্তীর্ণ সম্পদ কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু সম্পদ ইতোমধ্যে হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা চলছে, যা তদন্ত এবং সম্পদ উদ্ধারকে ঝুঁঁকিতে ফেলতে পারে। এ কারণেই দুদক তাৎক্ষণিকভাবে সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে। আদালত যুক্তি গ্রহণ করে জব্দের নির্দেশ দেন।
আগে শেয়ার জব্দ, এখন ভূমি : এর আগে একই আদালত গত ২০ অক্টোবর ১০৫টি প্রতিষ্ঠানের মোট পাঁচ হাজার ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৩২ হাজার ২৮২টি শেয়ার জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল, যেগুলো এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন।
এরও আগে ২৫ সেপ্টেম্বর আদালত নির্দেশ দেন ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করতে
গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ ও পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে।
এস আলম পরিবারের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যাপক আইনি পদক্ষেপকে তদন্ত কর্মকর্তারা বহু বছরের আর্থিক জালিয়াতি, ঋণ কেলেঙ্কারি ও সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের মামলাকে দ্রুত অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
এ জব্দাদেশ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, দেশের বড় করপোরেট সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে এখন আক্রমণাত্মক তদন্ত চলছে, সম্পদ পাচার ও অবৈধ ঋণ বিতরণের অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং বড় জালিয়াতি মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আর কোনো ছাড় নেই।
দুদকের কর্মকর্তাদের ভাষায়, ‘সংঘটিত আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি পুনরুদ্ধারে এ ধরনের তাৎক্ষণিক জব্দ অপরিহার্য।’