ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হংকংয়ের জিমি লাই

Printed Edition
onno-3
জিমি লাই

আলজাজিরা

হংকংয়ের উচ্চ আদালত সংবাদপত্রের মালিক, ধনকুবের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারী জিমি লাইকে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা গোপনে দুর্বল করা বিষয়ক তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ করা এই বিচারে লাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

সোমবার স্থানীয় সময় সকালে, তিন বিচারকের একটি প্যানেল লাইকে (৭৮) চীনের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে বিদেশী বাহিনীর সাথে ষড়যন্ত্রের দু’টি অভিযোগ ও রাষ্ট্রদ্রোহী উপাদান প্রকাশ করার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে কারাগারে থাকা লাই সবগুলো অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। তাকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন হংকংজুড়ে প্রবল সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (পিআরসি) ও এর ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিরাম আমন্ত্রণ’ জানানোর জন্য লাইকে অভিযুক্ত করেন বিচারক এস্থার টো।

তিনি ও তার সহকর্মী বিচারক অ্যালেক্স লি ও সুসানা ডি’আলমা রেমেডিওস লি’র মামলার ৮৫৫ পৃষ্ঠার একটি রায় দেন। এই রায়ে লিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার জনাকীর্ণ আদালত কক্ষে রায় ঘোষণার সময় টো বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রথম আসামি তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের অনেক বছর ধরে চীনের প্রতি তার বিরক্তি ও ঘৃণা পোষণ করে আসছিলেন।’

মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সংগঠনগুলো দ্রুততার সাথে এই রায়ের নিন্দা জানিয়ে একে ‘ন্যায়বিচারের গর্ভপাত’ বলে অভিহিত করে। সাজাপূর্ব শুনানির জন্য লাইকে ১২ জানুয়ারি আবার আদালতে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন কি না, তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

লাইয়ের বিরুদ্ধে এই বিচার ১৫৬ দিন ধরে চলেছে। এর মধ্যে লাই ৫২ দিন জেরার জবাব দিয়েছেন। সরকার পক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, তার প্ররোচনায়ই যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ অন্য অর্থনৈতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো নিয়েছে। লাই সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাননি। ২০২০ সালে প্রণীত হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে লাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। এই আইনে ‘অবরোধ’ বা ‘বিচ্ছিন্নতা’ বলে বিবেচিত কর্মকাণ্ডের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়। এই আইনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনাও নিষিদ্ধ করা হয়। হংকংজুড়ে গণতন্ত্রপন্থী ব্যাপক বিক্ষোভ চলাকালে বেইজিং সরকারের কট্টর সমালোচক লাইয়ের বিরুদ্ধে দ্রুততার সাথে এই আইনে অভিযোগগুলো আনা হয়।

১৯৯৫ সালে বাজারে আসা তার প্রকাশনা অ্যাপল ডেইলি হংকংয়ের বৃহত্তম গণতন্ত্রপন্থী সংবাদপত্র হয়ে উঠেছিল। লাইয়ের বিচার চলাকালে সরকারি কৌঁসুলিরা এই সংবাদপত্রের ১৬১টি নিবন্ধ প্রমাণ হিসেবে আদালতে দাখিল করেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ২০২০ সালের অগাস্টে লাই প্রথমবার গেফতার হন। তারপর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল; কিন্তু ডিসেম্বরে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়, ফের মুক্তি পাওয়ার পর তৃতীয়বার তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। এর পর থেকে কারাগারেই আছেন তিনি।