প্রত্যাশার রিকশা র‌্যালি

যুবসমাজকে রক্ষায় ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের দাবি

Printed Edition
back-3]
জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রত্যাশা আয়োজিত তামাকবিরোধী র‌্যালি : নয়া দিগন্ত

মাত্র কয়েকটি বিদেশী সিগারেট কোম্পানির স্বার্থে অপ্রচলিত ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ বৈধ করার পাঁয়তারা করছে কিছু গোষ্ঠী। যে পণ্যের ব্যবহার নেই সে ক্ষতিকর পণ্য কম ক্ষতিকর বলে বাজারজাত করতে চায় বিদেশী কোম্পানি ও তাদের সহযোগীরা। দেশের যুবসমাজকে বাঁচাতে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করে আইন সংশোধন করতে হবে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশোধনের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হলেও, বিগত এক বছরেও আইনটি পর্যালোচনা শেষ হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে তামাকজনিত রোগে মারা গেছে এক লাখ ৬১ হাজার মানুষ এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছে চার লাখেরও বেশি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংঠনের উদ্যোগে আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের দাবিতে রিকশা র‌্যালিতে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। র‌্যালিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে র‌্যালিতে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ শাগুফতা সুলতানা, ডাস্-এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল, পরিবেশকর্মী আবু নাসের অনীক, তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মী আবু রায়হান এবং বিভুতি ভূষণ। অবস্থান কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন শতাধিক রিকশাচালক।

বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সম্প্র্রতি রোগ সৃষ্টিকারী ‘নিকোটিন পাউচ’ কারখানার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বেজা। তাদের এ সিদ্ধান্ত কেবল হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থীই নয়; বরং সরকারের জনস্বাস্থ্য রক্ষা নীতিরও সম্পূর্ণ বিপরীত। ‘নিকোটিন পাউচ’ তামাক কোম্পানিগুলোর নতুন নেশার ফাঁদ। এটি মুখে রেখে ব্যবহার করায় দ্রুত নেশা তৈরি করে এবং তরুণদেরকে সহজেই আকৃষ্ট করে। অত্যন্ত আসক্তিকর ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতার পর ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, ফ্রান্সসহ ৩৪টি দেশ এ পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। ফলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের জন্য ফিলিপ মরিসকে দেয়া অনুমোদন বাতিল করতে হবে।

আইনের সংশোধনী নিয়ে তারা বলেন, আইনের খসড়ায় স্থানীয় সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন গাইডলাইনে স্কুল, হাসপাতাল, খেলাধুলার স্থানের কাছে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই তা বাস্তবায়ন করেছে। এক্ষেত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়ায় একক শলাকার সিগারেট বিক্রয় বন্ধে প্যাকেট ছাড়া বিক্রয় বন্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে তরুণ সমাজে ই-সিগারেটে আসক্তি মহামারী হিসেবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। বিজ্ঞপ্তি।