সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন

আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমরা নিজেদেরকে পাচ্ছি : প্রধান বিচারপতি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয়ের উদ্বোধন করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে এ পৃথক সচিবালয় ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন ও বারের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আজ প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমরা নিজেদেরকে পাচ্ছি। এখানে যাদেরকে দেখছেন আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতায়; আমরা তাদের এইডে এবং স্টেকহোল্ডার হিসেবে কালেক্টিভলি আমাদের এই সচিবালয় প্রাপ্তি হয়েছে। ২৬ বছরের যাত্রা কিন্তু এটি এখানে শেষ হলো না। আমাদের এখন সবচেয়ে বড় যে পদক্ষেপ নিতে হবে সেটা হচ্ছে এই সচিবালয়ের যে কার্যক্রম তার স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং সামনের মাস এবং বছরগুলো বলে দেবে আমরা কত সাফল্যের সাথে সেটা আমরা অর্জন করতে পারব। তিনি আরো বলেন, একটা জিনিস (সচিবালয়) হয়েছে। এখন কিন্তু এই যে আমাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা বিচারকার্য পরিচালনা করা এবং বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করা সেটা কিন্তু সব কিছু কনসেন্ট্রেটেড (হস্তান্তরিত) হয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টের কাছে।

‘এটার সাফল্য যতটা আমাদের অর্জন হবে এটার ব্যর্থতাও কিন্তু আমাদেরকে মেনে নিতে হবে। সেই দিক থেকে সবার কাছে আমার আহ্বান রইল আগামীতে যে নির্বাচিত সরকার আসবেন তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার আছেন তাদের সবাইকে আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা এই সচিবালয় ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে।’

গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনাদের (মিডিয়া) আমি সবসময় বলি ফোর্থ স্টেট। প্রিন্টেড, ইলেকট্রনিক মিডিয়া যারা আছেন; আপনারা গত ১৬ মাসে আমাদেরকে যে সহযোগিতা দিয়েছেন, সারা দেশে আমাদের যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, সেটার জন্য আমি আপনাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ এবং আপনাদের ছাড়া এটা করতে পারতাম না এবং এই সামনের যাত্রাটাও আপনারা আশা করি আমাদের পাশে থাকবেন। আপনারা আমাদের কার্যক্রম দেখবেন। প্রতিদিন সচিবালয়ের কিছু না কিছু হচ্ছে। দু’টি কমিটি অলরেডি গঠন করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম এখন প্রতিদিন প্রক্রিয়াধীন থাকল। আপনাদের শুভ কামনা করছি। এর আগে, গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

অধ্যাদেশ জারির পর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিতকরণে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন-সংক্রান্ত প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

ওই প্রস্তাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অধঃস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ যথাযথভাবে পালনের উদ্দেশে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশের খসড়া, প্রস্তাবিত সচিবালয়ের অর্গানোগ্রাম এবং রুলস অব বিজনেস ও অ্যালোকেশন অব বিজনেসের সম্ভাব্য সংস্কার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠানো হয়।