সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপার চ্যালেঞ্জ বাটলারের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দারুণ একটা বছর গেছে ২০২৪ ও ২০২৫ সাল। এই দুই বছর বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বেশ কয়েকটি সাফল্য। এর মধ্যে সাফ শিরোপা ধরে রাখা ছাড়াও নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার ছাড়পত্র অর্জন ও অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের ফাইনাল রাউন্ডে খেলার টিকিট পাওয়া। তবে চলতি ২০২৬ সাল বাংলাদেশের নারী ফুটবলে শুধুই ব্যর্থতা। নেপালের পোখরায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে ০-৪ গোলে হার। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপের ফাইনাল রাউন্ডে এবং থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বের তিন ম্যাচের সব ক’টিতেই পরাজয়ের লজ্জা। সেই ব্যর্থ ফুটবলারদের নিয়েই মে মাসে ভারতের গোয়াতে সিনিয়র সাফে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। যেখানে আফঈদা খন্দকার প্রান্তি, মিলি আক্তার, ঋতুপর্ণাদের হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশন। সেই লক্ষ্যেই আগামীকাল অনুশীলন করতে চট্টগ্রাম যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এরপর বিদেশে অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে গোয়াতে যাওয়া।
২০২৪ সালে সাবিনা, মাছুরা, কৃষ্ণা, সুমাইয়াদের নিয়ে নেপালের মাঠে সাফ শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ। কোচ পিটার বাটলার ২০২২ সালে গোলাম রাব্বানী ছোটনের এনে দেয়া সাফল্যই ধরে রাখেন। এরপর গত বছর মিয়ারমারের মাঠে নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব এবং লাওসের মাঠ থেকে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের ফাইনালে রাউন্ডে খেলার ছাড়পত্র আদায় করা হয়। গত সাফের পরপরই কোট বাটলারের বিপক্ষে বিদ্রোহ করেন সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে ১৮ ফুটবলার। ফলে কোচ বাটলার আর সাবিনা, মাছুরা, কৃষ্ণা, সুমাইয়া, সানজিদাদের ডাকেননি জাতীয় দলে। এদের ছাড়া নারী এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব উৎরানো সম্ভব হলেও চূড়ান্ত পর্বে ব্যর্থতা। এরপর অনূর্ধ্ব-২০ এএফসির আসরে ফাইনাল রাউন্ডেও হতাশার কাহিনী। যেখানে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার কথা সেখানে কোনো পয়েন্টই পায়নি অর্পিতা বিশ^াসরা। এতে প্রশ্নের মুখে পিটার বাটলারের কোচিং।
বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-২০ দলের একাদশ গঠন নিয়ে কথা উঠেছে। বাটলার ঠিক মতো একাদশ গড়তে পারেননি। স্বপ্না রানী ও মুনকি আক্তারদের মতো দক্ষ ও কুশলী মিডফিল্ডারদের কোনো ম্যাচেই পুরো সময় খেলাননি। কোচের বেশি ভরসা ছিল আফরিন, মৌমিতা ও উমেহেলাদের ওপর। জয় এনে দিতে পারেননি এরা। যে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের প্রত্যাশা ছিল সেই থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের কাছে হার। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোলে লিড নিয়ে এরপর হাইলাইন ডিফেন্স কৌশল এবং দুই ডিফেন্ডারের অহেতুক ফাউলে পেনাল্টিতে হার। আর ভিয়েতনামের বিপক্ষে সাগরিকার গোল মিস ও গোলরক্ষকের ভুলে গোল হজমে সব শেষ। এই ম্যাচে স্বপ্না রানী মাঠে নামার পর বাংলাদেশ দলের খেলায় গতি বাড়ে। অথচ বাটলার তাকে প্রথম একাদশে রাখেননি। যদিও এই ব্যর্থতার জন্য কোনো জবাবদিহিতা করতে হয়নি বাটলারকে। এখন তিনি সাফ মিশন নিয়ে ব্যস্ত।
বাফুফের নারী কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরন জানান, আমরা কোচ বাটলারকে সোজা বলে দিয়েছি, কোনো কথা শুনতে চাই না। সাফে জিততে হবে হ্যাটট্রিক শিরোপা। আর এ জন্য আমরা দলকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন বা থাইল্যান্ড পাঠানোর চেষ্টা করছি। সম্ভবত থাইল্যান্ডেই শেষ পর্যন্ত পাঠানো হবে দলকে। সেখানেই দুই থাই ক্লাবের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে যাবে ভারতে সাফ শিরোপা ধরে রাখতে।