রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি বাজারে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ড. এ বি এম সিদ্দিক নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এক আওয়ামী লীগ নেতা বহুতল একটি বাড়ি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দখল ফিরে পেতে পথে পথে ঘুরছেন বাড়িটির মূল মালিক দাবি করা সাবেক সেনা সদস্য রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, তিনি ২০১৪ সালে নারগিস আক্তারের কাছ থেকে ঢাকা সিটি জরিপের পশ্চিম তেজতুরি বাজারের ৩৬৯, ৫০৩ ও ৪৮৯ খতিয়ানের ১১০ ও ৭২নং দাগের প্রায় ২৫ কাঠার জমিটি ক্রয় করেন। নারগিস আক্তার আম-মোক্তারবলে জমিটি বিক্রি করেন।
তিনি দাবি করেন, এ বি এম সিদ্দিক ২০১০ সালে জমিটি ক্রয় করেন মর্মে ভূমি অফিসে দলিল দাখিল করেন এবং জমিটি নিজের নামে লিখে নেন। পরবর্তীতে দলিলটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। রফিকুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি অফিস তার নামে জমিটি রেকর্ড দেন। এ বি এম সিদ্দিক পরে আরো দুইবার নিজ নামে জমিটি লিখে নিলে ভূমি অফিস মোট তিনবার রফিকুল ইসলামের পক্ষে রায় দেন। সর্বশেষ জমিটি রফিকুল ইসলামের নামে রেকর্ড করে ভূমি অফিস।
রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্রয় সূত্রে ১৩.২০ শতাংশ ও অপ্রত্যাহারযোগ্য আম-মোক্তারমূলে ২৮.৭১ শতাংশ জমির হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে আসছেন। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগও তার নামে করা আছে। জমিটির উপর বহুতল ভবন রয়েছে। ভবনটিতে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিওর ব্যানারে আনসার সদস্যদের বসিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম সিদ্দিক দখলে রেখেছেন।
জানা গেছে, ড. এ বি এম সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও ও হাতিরঝিল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা এলাকার বাসিন্দা এ বি এম সিদ্দিক সাবেক চিফ হুইপ পলাতক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর আস্থাভাজন ছিলেন। তিনি পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র নামে একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা এবং ক্লান্তি অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করছেন। এর বাইরে তিনি ক্লান্তি ফ্যাশন লিমিটেড, ক্লান্তি হাউজিং লিমিটেড, অরুনি লিমিটেড ও গ্লোবাল ব্যাঞ্চার্স লিমিটেডের মালিক।
রফিকুল ইসলাম সরকারের কাছে জমি ও ভবন থেকে সশস্ত্র আনসার ক্যাম্প প্রত্যাহার, অনেকগুলো মামলার এজহারভূক্ত আসামি এ বি এম সিদ্দিককে গ্রেফতার ও জমি ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছেন বলে নয়া দিগন্তকে জানান।
দখলকৃত জমি নিজের দাবি করে এ বি এম সিদ্দিক নয়া দিগন্তকে বলেন, তার কাছে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আছে। জমির রেকর্ড বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নয়া দিগন্তের প্রতিনিধিকে অফিসে দেখা করে ডকুমেন্ট যাচাইয়ের অনুরোধ জানান। ভবনটি তিনি নিজে নির্মাণ করেছেন বলে জানান।
তবে ভবন নির্মাণের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ভবনটি প্রথমে তিনি তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করেন। এরপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এ বি এম সিদ্দিক চতুর্থ থেকে দশতলা পর্যন্ত নির্মাণ করেন। এই দশতলা নির্মাণের অনুমোদন রাজউক বাতিল করেছে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তার নামে সর্বশেষ হওয়া দু’টি রেকর্ড এ বি এম সিদ্দিক স্থগিত করেছেন।
এসব বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম।