কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবেঃ টিআইবি

নবনিযুক্ত গভর্নর পরিবর্তনের আহবান

Printed Edition
Back------3
মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন টিআইবি কর্মকর্তারা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত রাখার আহবান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটি মনে করে তা না হলে দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ প্রসঙ্গে সংস্থাটি মনে করে, এমন এক ব্যক্তিকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত করা উচিত যিনি সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং যার কোনো ধরনের স্বার্থের দ্বন্দ্ব নেই। দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ এ পদে স্বার্থের সঙ্ঘাতমুক্ত ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য : টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমান নিয়োগটি রাজনৈতিক বিবেচনায় হওয়ায় তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীন সত্তাকে ক্ষুণœ করতে পারে। টিআইবি বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বের পরিবর্তে অন্য কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর হবে।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় মো: মোস্তাকুর রহমানকে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সরকারের এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, কেবল গভর্নরের পরিবর্তনই নয়; বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থপাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংককে যে ধরনের কঠোর অবস্থান নেয়া উচিত, তা নিশ্চিত করতে হলে একটি স্বাধীন নীতিনির্ধারণী পর্ষদ থাকা আবশ্যক।

টিআইবি আশা প্রকাশ করে, সরকার তাদের এ সুপারিশ আমলে নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তারা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের তাগিদ দেন। এ সময় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।