ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত ৩০০ কোটি টাকার মেডিক্যাল কলেজ
Printed Edition
নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)
ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ‘ইউনুস খান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’ নামে আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটি বিগত চার দশকেও চালু হয়নি। ১৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা বিশাল হাসপাতাল কমপ্লেক্সটির অধিকাংশ অবকাঠামোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ দিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরিচর্যার অভাবে ভবনজুড়ে জন্মেছে ঘন জঙ্গল। সেখানে এখন মাদকসেবীদের আনাগোনা, বিষাক্ত সাপের উপদ্রব এবং নানা ধরনের সামাজিক অবয়মূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি সরজমিন দেখা যায়, ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সীমান্তবর্তী পাইকপাড়া ও ওয়ার্শী এলাকার প্রায় ১৬ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত হাসপাতাল কমপ্লেক্সটি অযতেœ অবহেলায় পড়ে আছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও শিার্থীদের জন্য আবাসিক হোস্টেল, মসজিদসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সেগুলো কখনো ব্যবহৃত হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৯৮৫ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার ল্য নিয়ে ইউনুস খান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। উদ্যোক্তা শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবালের বাবা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর তার স্মৃতিকে সামনে রেখে প্রথমে একটি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইকবাল আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠাতার বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল দেশে একটি উন্নতমানের ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হলেও নানা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটে প্রায় ২০ বছর আগে কাজ থেমে যায়। ২০১৭ সালে প্রধান উদ্যোক্তা খান মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যুর পর প্রকল্পটি পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে হাসপাতালটি জনগণের সেবায় চালু করতে মালিকপ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল হক বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে ধামরাই ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতেন। অথচ এত বড় স্থাপনা বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর কোনো উপকারেই আসছে না।
মেডিক্যাল শিার্থী জহির আহমেদ বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরÑ এই চার জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। বর্তমানে শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত অকেজো হয়েই পড়ে আছে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আল মামুন বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি উদ্যোক্তার মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালটি কিভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করছে।
এ দিকে এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এই হাসপাতাল কমপ্লেক্স দ্রুত চালুর বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়া হোক। এতে এক দিকে যেমন বিপুল বিনিয়োগের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্য দিকে কয়েকটি জেলার লাখো মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন।