আদরের সন্তান কম দেখে কি না? : মো: সাইদুর রহমান

Printed Edition
pas-5
আদরের সন্তান কম দেখে কি না? : মো: সাইদুর রহমান

আমরা অনেক সময় বোঝার চেষ্টা করি না, আমাদের শিশুসন্তান চোখে কম দেখছে কি না। বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন, চোখে কম দেখার সমস্যা শুধু বড়দের বেলায় হয়। আসলে তা নয়, ছোটরাও কোনো কোনো সময় কম দেখে। অনেক সময় তারা যে চোখে কম দেখে, সেটি বোঝে না বা বলতেও পারে না। এ কারণে মা-বাবা কিংবা অভিভাবকদের দায়িত্ব হচ্ছে- তার শিশু কম দেখছে কি না, সেটি খেয়াল করা। এ ক্ষেত্রে যেকোনো গাফিলতি ভবিষ্যতে আপনার শিশুসন্তানকে এমন সমস্যায় ফেলতে পারে, যা হয়তো আদৌ সমাধান করা যাবে না। এ কারণে আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার শিশুসন্তান কম দেখে-

১. নবজাতক বা শিশুর নেত্রস্বচ্ছ (কর্নিয়া) ঘোলা কিংবা চোখের ভেতরে অক্ষিতারা সাদা কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন। ২. একটু বড় হলে (তিন-চার বছর) খেয়াল করুন, আপনার সন্তান চোখ কুঁচকে বা পিটপিট করে দূরের কিছু দেখতে চাচ্ছে কি না। ৩. শিশু যদি বাসায় খুব কাছে গিয়ে টেলিভিশন দেখে কিংবা স্কুলে ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা দেখতে পায় না বলে অভিযোগ করে তাহলে সতর্ক হোন। ৪. শিশু ঘাড় কাত করে, এক চোখ বন্ধ করে দেখার চেষ্টা করছে কি না সেদিকে লক্ষ রাখুন। ৫. যদি শিশুর যেকোনো চোখের পাপড়ি ঝুলে পড়েছে বা মনে হচ্ছে সে ঘুমঘুম চোখে তাকাচ্ছে কিংবা কালো মণি প্রায় ঢেকে আছে, তাহলে সতর্ক হোন। ৬. পারিবারিকভাবে মা-বাবা বেশি পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করলে সন্তানের ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক হোন। ৭. ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা কিংবা নবজাতকের চোখের কালো অংশ (নেত্রস্বচ্ছ) অনেক বড় কি না বা আলো সহ্য করতে পারছে কি না, সেদিকে লক্ষ রাখুন।

উপরের লক্ষণগুলো দেখতে পেলে বুঝতে পারবেন আপনার আদরের সোনামণির চোখে সমস্যা আছে বা কম দেখে।

এ অবস্থায় আপনি কি করবেন- ১. একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ২. শিশু মোবাইলে আসক্ত থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করুন। কেননা, বেশিক্ষণ মোবাইল দেখলে চোখের ভেতরের রেটিনা পরিপূর্ণতা নাও পেতে পারে। ৩. কাছাকাছি নির্দিষ্ট দূরত্বে চোখ বেশি সময় না রাখা, কিছুক্ষণ পরপর দূরের দৃশ্য দেখা, সবুজ দৃশ্য দেখা উত্তম। ৪. প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা সূর্যের আলো লাগান। ৫. ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- গাজর, পালং শাক এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজি খাওয়ান। ৬. মাছ, আখরোট এবং তিসির বীজে থাকা ওমেগা-থ্রি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ৭. অন্যান্য পুষ্টি : ডিম এবং অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও শিশুদের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।