পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আরো জনবান্ধব হতে হবে : ডা: শফিকুর রহমান
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের ল্েয আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সংসদ সদস্যদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান।
সভায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (ঢাকা-১৪) এবং আবদুল বাতেন (ঢাকা-১৬) নিজ নিজ এলাকার মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও অপরাধ দমনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের জানমাল রা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আরো জনবান্ধব ও কার্যকর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি।
সভায় ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং ঢাকা-১৬ আসনের আবদুল বাতেন নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল এবং ক্রমবর্ধমান কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা এবং উভয় আসনের আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা সভায় চলমান বিশেষ অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন এবং অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকার সমর্থিত মব-কালচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বলে মনে হচ্ছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক ও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তার উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এভাবে অপমান করার অধিকার কারো নেই।
এমনিতেই ফ্যাসিবাদের নাগপাশে পড়ে দেশের অর্থনীতিতে চরম দুরবস্থা, সর্বস্তরে দুর্নীতির মহামারউ, সাথে রয়েছে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট; তার পাশাপাশি যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন অনাকাক্সিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে।
আমি মনে করি, এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সমাজের সব স্তর থেকে প্রতিবাদ হওয়া উচিত। ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা দ, দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নানা উৎপাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আমি সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, সত্যিকারভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এসব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সাথে, দলীয় আনুগত্য নয়; যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদেরকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।