শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Printed Edition
back-1
সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে ডুজার মানববন্ধন : নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সাংবাদিক সমিতির বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, মামলা গ্রহণ, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কর্মসূচিতে সংহতি জানান ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আবু হানিফ, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি, বিডিনিউজ২৪-এর সাংবাদিক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রুবেল, ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য ইয়ামিন সাজিদ, চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হোসাইন তারেক, সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির, দৈনিক এদিন-এর সাংবাদিক সুমন্ত চক্রবর্তী ও আলজাজিরার সাংবাদিক মওদুদ আহমেদ সুজন, দৈনিক গণজাগরণের সাংবাদিক মো: আবু সাঈদসহ অনেকে।

মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমগুলো যখন সত্য প্রচারের পরিবর্তে শক্তির প্রচার করে, তখন সেই সমাজ, সেই রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দিকে পা বাড়ায়। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যারা জনগণের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত থাকে, জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে, তারা যখন জনগণকে নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে শাসকশ্রেণীর পক্ষে অবস্থান নেয় এবং নির্যাতিতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করায়, তখন সেই রাষ্ট্রটি চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদের রূপ ধারণ করে।

তিনি বলেন, যারা সে দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে, নির্যাতন করেছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটি যদি করা না হয়, তাহলে আমি মনে করব, সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ বিগত ১৭ বছরে যেভাবে অধিকারবঞ্চিত হয়েছে, সাংবাদিক সমাজ যেভাবে নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হয়েছে, আবার সে পথে যদি এই সরকার হাঁটতে চায়, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম, আমরা যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলাম, সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে এবং এই সরকার আবার নতুনরূপে ফ্যাসিবাদে আবির্ভূত হবে। এর পরিণতি খুব খারাপ।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা এই হামলার সাথে যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জড়িত থাকে, সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন।’

প্রশাসনের উদ্দেশে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকরা সেখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিল, পুলিশ সে দিন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমি আইজিপিকে অনুরোধ করব, তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে এই রাষ্ট্রীয় বাহিনী থেকে বরখাস্ত করতে হবে।’

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় মামলাটি এখন পর্যন্ত লিপিবদ্ধ হয়নি। আপনাদের কম্পাউন্ডেই এই বিশৃঙ্খলা এবং হামলা হয়েছে। সুতরাং পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের দাবি এবং আহ্বান থাকবে অনতিবিলম্বে সেই মামলা গ্রহণ করুন। মামলা করে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’

দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজকে এখানে দাঁড়িয়েছি আমাদের কিছু ছোট ভাইয়ের জন্য, যারা এই ক্যাম্পাস থেকে একটি মহান দায়িত্ব পালন করছেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী উভয়ই নানাভাবে টালবাহানা করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মানজুর হোসাইন মাহি বলেন, ‘শাহবাগ থানায় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় এবং আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।

সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, ‘শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু নিন্দনীয় নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ঘটনায় বিচার নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা আরো দ্রুত ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।’