শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময়

গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি

Printed Edition
first-4
রাজধানীর একটি হোটেলে গণমাধ্যমের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, বার্তা প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও প্রধানদের সাথে মতবিনিময়কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ দলের পক্ষ থেকে এই সহযোগিতা চান।

তিনি বলেন, যে অপশক্তির উত্থান সবাই এখানে আজকে বলেছেন, সেই অপশক্তির উত্থানটা আমরা লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত। গত কয়েক দিন আমরা লক্ষ্য করেছি তার একটা স্বরূপ, চেহারা এবং কর্ম প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং জাতীয় ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে এবং জাতীয়ভাবে আমাদের সবাই এই বিষয়ে যেন সচেতন হতে পারি সে জন্য সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখার জন্য আপনাদের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন- এ ছাড়া হবে না।

সালাহ উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমের কাছে গঠনমূলক সমালোচনা ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। পরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদদু আলমগীর পাভেল বক্তব্য রাখেন। রেডিসন ব্লু, ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের বিএনপির উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধানের সাথের এই মতবিনিময় হয়।

সভায় যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব সমালোচনা করা- কিন্তু প্রশংসা করাও তাদের দায়িত্বে এটা আমার মনে রাখতে হবে। আমি যখন আবার যায়যায়দিন ফিরে পেলাম- সম্পাদকীয় বিভাগকে বলেছি, তোমরা খেয়াল রাখবে একটা ছোটখাটো প্রশংসার কাজও যদি হয়; ব্যক্তিগতভাবে, সরকারিভাবে ওই কথাটা লিখবে। কেবল সমালোচনাই করো না। সাংবাদিকদের দায়িত্ব কিন্তু প্রশংসা এবং সমালোচনা দুটো করা। আপনাদের অনুরোধ করছি, সাংবাদিক হয়ে যাওয়া মানে ফ্রি লাইসেন্স পেয়ে যাওয়া বা সরকারের সমালোচনা করা, ইউনূস সাহেবের সমালোচনা- এটা কিন্তু নয়।

তিনি মাহফুজ আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সাংবাদিক ভুল করতে পারে। এ কথা বলার জন্য মাহফুজ আনামকে ধন্যবাদ দেন শফিক রেহমান। তিনি বলেন, সরকারও ভুল করতে পারে, সাংবাদিকও ভুল করতে পারে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা- ভুল স্বীকার করার সাহস থাকতে হবে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিনয়ী আখ্যা দিয়ে শফিক রেহমান বলেন, তিনি বিশাল ভুল করেছিলেন ওয়ান-ইলেভেন হওয়ার পরে। এবং সেই ভুল তিনি টেলিভিশনে এসে স্বীকার করেছিলেন।

অন্যদিকে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, আমি মনে করি দেশে একটা রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে। এটি বিপজ্জনক এবং তা বিএনপির জন্যও কিছুটা কঠিন অবস্থা। আমি সবসময় ভাবতাম বা এখনো মনে করি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি আরো আগে আসতে পারতেন তাহলে হয়তো বিএনপির জন্য এবং দেশের মধ্যে একটা ভালো পরিস্থিতি বিরাজ করত। তার অনুপস্থিতি বিএনপিকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, নানা রকম বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি বিএনপির জন্য নেতিবাচক। গত ১৫ মাসে বিএনপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং এখনো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি বড় দল, এটি স্বীকৃত। আমাদের জরিপ বলছে এবং আমরা এটা বিশ্বাস করি নির্বাচনে অনেক বেশি ভোট পেয়ে তারা বিজয়ী হবে। আমরা এটা বিশ্বাস করতে চাই বা আমরা ভাবতে পারি যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসছে।

ক্ষমতায় আসছে যে দল, সে দলের নেতৃত্ব সে দলের সবপর্যায়ের নেতৃত্ব কর্মীবাহিনীর সব কর্মকাণ্ডের মধ্যে সেই আচরণ বিনয়ী, সৌজন্য, অভদ্রতার অনেক বেশি করে প্রতিফলিত হওয়া দরকার।

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের হামলা-অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সব রাজনৈতিক দল, শ্রেণী-পেশার মানুষ পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন মতিউর রহমান।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আপনারা প্লিজ মনে রাখবেন যে বাংলাদেশের ৫৩ বছর বয়সে কোনো মিডিয়ার অফিসে আগুন জ্বালানো হয় নাই। সর্বপ্রথমবারের মতো প্রথম আলো টেলিস্টারের অফিসে আগুন জ্বালানো। কেন? আমরা কী অপরাধ করলাম? আমি এটা অনুরোধ করব সব মিডিয়াকে যে সত্যিকার অর্থে আপনারা এটা প্রশ্ন করবেন। তবে ভবিষ্যতের দিকে আমি তাকাতে চাই। আমি সুন্দর একটি সম্পর্ক মিডিয়ার সাথে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে আমার অনুরোধ থাকবে। প্রথমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হচ্ছে স্টেপ ওয়ান। এটা রাজনীতির দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণই অবস্থান হবে। মানে কি বলব? ক্রিটিক্যাল মতপ্রকাশেরস্বাধীনতা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে কিন্তু আপনার আমি সমালোচনা করব সেইটা স্বাধীনতা। এখন সালাহউদ্দিন ভাই ইউ আর ভেরি ফ্রেন্ডলি টু মিডিয়া বিকজ ইউ আউট অফ পাওয়ার। আপনি ক্ষমতায় গেলে কেমন হবেন সেটা আমরা যখন দেখব যে আপনি একই রকম উদার, একই রকমভাবে আপনি গ্রহণ করছেন সমালোচনা। আমাদের এই ৫৩ বছরের রাজনীতিতে বড় অভিজ্ঞতা হলো যে, কোন সরকার কোনদিন তারা ক্রিটিক্যাল জার্নালিজম এক্সেপ্ট করে নাই।

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন একটা অস্থির সময় কঠিন সময়। দেশটা দু’ভাগে বিভক্ত। বিভাজনের মধ্যে কথা বলাও খুব ডিফিকাল্ট। তবে আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমি খুবই আশাবাদী হতে চাই যে, আগামী দিনে যদি এর শিকি ভাগ বাস্তবায়িত হয়। মিডিয়া পলিসি যেটা বলা হয়েছে তারা যদি সেটা বাস্তবায়ন করেন তাহলেই বোধ হয় বাংলাদেশের মিডিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে। তারেক রহমান এমন এক সময় আসছেন যখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপত্তা। মানুষ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে চায়। কিন্তু মানুষ কিন্তু এখন নিরাপদ ভাবতে পারছে না। চার দিকের পরিস্থিতি যেদিক যেভাবে যাচ্ছে, আমরা যখন কথা বলছি, এখন ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, দিল্লিতে আমাদের হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলা হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে প্রহরীরা। চার দিকে কিন্তু আমি খবরাখবর যা দেখছি, ডেইলি স্টার, প্রথম আলোর ওপর হামলা হলো এরপরে কি হবে কেউ জানে না । সেই কারণ এই অবস্থায় বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি বিএনপি মানুষের পাশে থাকবে তারেক রহমান আসবেন তারেক রহমান সেই প্রতিশ্রুতি দেবেন- সেটা আমি জানি।

তিনি বলেন, আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে চাই , লিখতে চাই , আমাদের কথা বলতে দিন আপনারা যদি এটা নিশ্চিত করেন সাধুবাদ জানাব। আর না হলে আবারো হয়ত বা আমরা আপনাদের সমালোচনা করব; কিন্তু এই সমালোচনা যেন হঠকারিতায় পরিণত না হয় সেই দিকটাও আমাদের দেখতে হবে। আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কিন্তু বিপন্ন হতে পারে। যদিও আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ না হই রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব যদি বিপন্ন হয়ে যায় তাইলে আমরা কেউই থাকব না। আগামী দিনের সুন্দর ভবিষ্যৎ তারেক রহমানের আগমনকে আমি শুভেচ্ছা জানাই। আমি মনে করি, তিনি এলে বাংলাদেশের চেহারা হয়তোবা পাল্টে যাবে।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কামাল আহমেদ বলেন, কৌতুক করার অধিকার মানুষকে দিতে হবে। তারেকরহমান আমি প্রশংসা করি এই কারণে যে, তিনি একটি দিকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যে প্রথমে একটি কার্টুন শেয়ার করেছিলেন নিজের ছবি নিয়ে কার্টুন যেটা উনি শেয়ার করেছিলেন স্বৈরাচারের পতনের পর। ভবিষ্যতে যাতে আরো কার্টুন হয় এবং সেই কার্টুন হওয়ার কৌতুক করার সুযোগটা থাকে যাতে থাকে। আপনাদের মাঠ পর্যায়ের সমর্থকরা কিংবা মধ্যম সারি, নিম্ন সারির নেতারা যেন তেড়ে না আসেন সেটাও আপনাদের তাদেরকে শেখাতে হবে।

এ ছাড়া নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইউএনবির সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী ফাহিম আহমেদ, বিবিসির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, এটিএন বাংলার পরিচালক বার্তা হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিন, আশরাফ কায়সার, আবদুর নূর তুষার, নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অফ নিউজ শরীফুল ইসলাম খান সভায় বক্তব্য রাখেন।

সম্পাদকদের মধ্যে নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন মুহম্মদ বাবর, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালন মাহবুব মোর্শেদ, দি সান এর রেজাউল করিম, লোটাস, সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, আমার দেশ এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, জনকণ্ঠের খোরশীদ আলম, প্রতিদিনের বাংলাদেশ মারুফ কামাল খান, বাংলা বাজারের রাশেদুল হক, বাংলা নিউজের তৌহিদুর রহমান মিঠু, ইটিভির আবদুস সালাম, ডিভিসির লোটন ইকরাম, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এসএ টিভির মাহমুদ আল ফয়সাল, এনটিভির ফখরুল ইসলাম কাঞ্চন, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবির সুমন, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, ইন্ডিপেন্ডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাছ রাঙার রেজানুল হক রাজা, নাগরিক টিভির এরফানুল হক নাহিদ, জিটিভির গাউসুল আজম বিপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, দেশ টিভির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এখন সময় তুষার আবদুল্লাহ, নিউ এজের শহীদুজ্জামান, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, স্টার নিউজের ওয়ালিউল মিরাজ, মোহনা টিভির এম এ মালেক, গ্রিন টিভির মাহমুদ হাসান, দীপ্ত টিভির এ এম আকাশ, ঢাকা পোস্টের কামরুল ইসলাম, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ, মহিউদ্দিন খান মোহন, জাহিদুর রহমান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ডিএমডি গিয়াস উদ্দিন রিমন, শীর্ষ নিউজের একরামুল হকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরা মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ইসমাইল জবিহ উল্লাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়া উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কেন্দ্রীয় নেতা মাহাদী আমীন, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আতিকুর রহমান রুমন, মীর হেলাল, মোর্শেদ হাসান খান, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবীর খান, মাহমুদা হাবিবা, ফারজানা শারমিন পুতুল, শামসুদ্দিন দিদার, খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম শামসুর ইসলাম প্রমুখ নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।