আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ

নড়াইলে সাহরির সময় দু’পক্ষের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ নিহত ৫

Printed Edition

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ অন্তত পঁাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ কমপক্ষে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ এবং খলিল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।

এসপি আল মামুন শিকদার ও নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা এ ঘটনার জেরে আরো বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে তাদের মাঝে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এরই জের ধরে গতকাল ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ নিহত হন।

এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের গুরুতর আহত ওসিবুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নারীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পাশাপাশি আরো বড় ধরনের সঙ্ঘাতের আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রামটির সাধারণ মানুষ।

নিহত খলিল খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম জানান, সোমবার ভোর রাতে সাহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যা ৫০-৫৫ জন লোক দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে হামলা করে। এ সময় তারা খলিল শেখ ও ছেলে তাহাজ্জুদ শেখকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে নৃশংশভাবে হত্যা করে। এ ছাড়া এ পক্ষের ফেরদাউস ও ছেলে মুন্না শেখ কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়।

নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার ও সদর থানার ওসি ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।