দুর্ঘটনায় হতাহত কমাতে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের দাবি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হলে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর একটি সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন জরুরি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। যার জন্য বাংলাদেশকে এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই উন্নয়নে সড়ক নিরাপত্তা আইন : বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ দাবি জানান। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের রোড সেফটি ইনজুরি অ্যান্ড প্রিভেনশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়ালী নোমান। তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়; আহত হয় আরো বহু মানুষ। বিআরটিএ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী অতিরিক্ত গতি ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি।
তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বড় অংশ প্রথমে যায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যেখানে জরুরি চিকিৎসা প্রদানের সক্ষমতা সীমিত। হাসপাতালের শয্যার প্রায় ১৬.২ শতাংশ এসব রোগীর জন্য ব্যবহৃত হয়; একজন রোগী গড়ে ১৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকেন এবং ওষুধ, পরিবহন, খাবার ও থাকার পেছনে ব্যয় হয় গড়ে ৩১ হাজার ৬৮৩ টাকা। এতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, স্থানীয় সরকার সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব। এ জন্য নতুন স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন দরকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, রোডক্র্যাশজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং পরিবারকে আর্থিক সঙ্কটে ফেলছে। দেশে এখনো কার্যকর দুর্ঘটনা পরবর্তী রেসপন্স কাঠামো গড়ে ওঠেনি। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় দুর্ঘটনার পর সময়মতো সেবা নিশ্চিত করা যায় না। একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করাই এখন জরুরি।
স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের ম্যানেজার এম খালিদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (এস্টেট) নিখিল কুমার দাস, জিএইচএআইর কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর এবং সাবেক সচিব ড. মো: শরিফুল আলম, হাইওয়ের পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টের জেনারেল হাবিবুর রহমান প্রমুখ।