তিনগুণ ফলন, বাড়ছে কৃষকের আয়
কৃত্রিম আলোয় অমৌসুমে ড্রাগন চাষ
Printed Edition
মো: রাশেদুর রহমান রাশু বেনাপোল (যশোর)
যশোরের শার্শা উপজেলায় কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে সাফল্য পেয়েছেন উদ্যোক্তারা। ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে দিন বাড়িয়ে শীতকালেও ফলন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক এলইডি লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাতেও ড্রাগন বাগান আলোকিত রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা এবং শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থেকে শীতকালেও ফুল ও ফল ধরছে।
বেনাপোলের সরবাংহুদা এলাকায় ১২ বিঘা জমিতে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠেছে একটি ড্রাগন বাগান। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ফল সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে দৈনিক প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। মৌসুম এলে উৎপাদন আরো দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। একটি গাছ থেকে প্রায় ১০ বছর ফলন পাওয়া যায়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, অমৌসুমে বাজারদর বেশি থাকায় এই পদ্ধতি লাভজনক। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা ফল কিনতে আসছেন। আলোকসজ্জায় সজ্জিত বাগানগুলো দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, অমৌসুমে উৎপাদিত ফলের উচ্চমূল্যের কারণে লাইটিং পদ্ধতি কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।