জাগহোয়া মানুষ : লোপা জয়নুল আবেদীন
Printed Edition
জাগহোয়া মানুষের কথা বলছি; ‘বেরি’ নামেও পরিচিতি আছে এদের। এরা ছড়িয়ে আছে আফ্রিকার সুদান, চাদ ও নাইজারে; প্রধানত বাস করে সুদান-চাদ সীমান্তে। জাগহোয়া জনসংখ্যা ৪ লাখের বেশি । উট ও গবাদিপশু পালন এবং কৃষিকাজ এদের জীবিকা। এ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা আছে। এ ভাষার নামও জাগহোয়া। এ জাতি নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে ‘বেরি’ নামে। এদের জাগহোয়া নাম দিয়েছে প্রতিবেশী আরবরা। জাগহোয়া অর্থ ভেড়াপালক। এরা ভেড়া পালন করে। সম্ভবত এ কারণেই আরবরা এ নাম দিয়েছে। এরা জাগহোয়া নামেই বেশি পরিচিত। এ জাতি অতিথিপরায়ণ। এরা ইসলামের আলোয় আলোকিত। তবে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতিও এরা শ্রদ্ধাশীল। এদের ঐতিহ্যবাহী প্রথায় এখনো অনেক কুসংস্কার দেখা যায়। যেমন- এরা চোখ লাগায় বিশ্বাস করে। এটা থেকে রক্ষা পেতে এরা বিশেষ ধরনের বাড়ি তৈরি করে। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে শিশুদের বাইরে নিয়ে যায়। জাগহোয়ারা একটি প্রাচীন জাতি। ৭ শতকে এদের একটি রাজ্য ছিল। এ সময় গোত্রপ্রধানরা রাজ্য শাসন করত। কঠিন সামাজিক শ্রেণী ও পারিবারিক গোত্রে জাতি বিভক্ত ছিল। যুগপরিক্রমায় এখন জাগহোয়া সামাজিক পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। গোত্রপ্রধানদের কর্তৃত্বও কমেছে। সুদান চাদ ও নাইজারে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তা সত্ত্বেও জাগহোয়া উপজাতির বিভিন্ন গুচ্ছ এখনো নানা গোত্রে বিভক্ত।
জাগহোয়া নারীরা ছোট ছোট সবজি বাগানে কাজ করে। এরা বন্যঘাস, বীজ, বেরি (ক্ষুদ্র রসালো ফলবিশেষ) ও অন্যান্য ফল সংগ্রহ করে।
নারীদের ছোট ছোট দল অনেক সময় প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের জন্য মাসব্যাপী সফরে বেরোয়। এ সময় এরা গাছের শাখা ও ঘাসের তৈরি ঘরে বাস করে। সংগ্রহ অভিযান শেষে বিভিন্ন শস্য এরা মাটির কলসিতে ভরে রাখে। এরা মধু, বিভিন্ন পাতা ইত্যাদিও সংগ্রহ করে। জাগহোয়াদের আবাসভূমি তৃণভূমি ও মালভূমি নিয়ে গঠিত। আর এগুলোর পাশে রয়েছে গভীর খাদ। মরুভূমি ঘিরে আছে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক। বৃষ্টিপাত অনেক সময় কম। তা সত্ত্বেও এখানে রয়েছে বেশ ঘন গাছপালা।