ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধসে গেছে মাদরাসা ভবন
Printed Edition
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি মাদরাসা ভবনের পুরোটাই খালে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় ভবনের ক্ষতিপূরণ দাবিতে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন লন্ডন প্রবাসী নিজাম উদ্দীন।
সূত্র জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের জামতলি বাজারের পূর্ব পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর লন্ডন প্রবাসী নিজাম উদ্দীন ২০২৩ সালে একটি টিনশেড পাকা ভবন তৈরি করেন। ওই ভবনে ইকরা ইন্টারন্যাশনাল মহিলা মাদরাসা স্থাপন করে। শতাধিক শিক্ষার্থী ওই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে।
গেল বছরের ডিসেম্বরে কোনো নিদের্শনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এলজিইডির অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রাইভেট) মাদরাসাসংলগ্ন স্থানে গভীর খনন করে পুরনো কালভার্ট ভাঙার কাজ শুরু করেন। এ সময় ভবনের ক্ষতির শঙ্কায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পুরনো কালভার্ট ভাঙায় বাধা দিলেও ঠিকাদারির পক্ষ থেকে কোনো ক্ষতি হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতিতে পুরো ভবনটির চার পাশের দেয়াল ভাঙনসহ ফ্লোরে মারাত্মক ফাটলের দেখা দেয়।
প্রতিষ্ঠান প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা বারবার বলার পরও ঠিকাদারের লোকজন আমাদের কথা কর্ণপাত করেনি। ফলে মাদরাসাটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরেই ক্লাস করছিলেন। ফলে বাচ্চারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা মো: নুর হোসেন ঠিকাদারের গাফিলতি ও কোনো ধরনের নিরাপত্তা ছাড়াই এ ধরনের কাজ করার ফলে পুরো মাদরাসা ভবন ধসে গেছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মাদরাসা ভবন নির্মাণে পুরো ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। ভবনটি ধসে যাওয়ার কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীরা মানবেতরভাবে একটি মসজিদে শিক্ষাগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর কাজী বেলাল জানান, আমি বিষয়টি জানি এবং ঘটনাস্থলে কয়েকবার গিয়েছি। তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি। এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করে নেবো। এলজিইডি রামগঞ্জ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ মাহমুদ খান জানান, ঠিকাদারের সাথে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। আমরা ভবনটি সংস্কার বা নির্মাণ করে দেবো।