মানিকছড়িতে থমকে আছে স্কুল লাইব্রেরি কার্যক্রম

Printed Edition

আবদুল মান্নান মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি)

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সুসজ্জিত পাঠাগার, পর্যাপ্ত বই, বুকসেল্ফ, আলমিরা, মনিষীদের ছবি- সবই আছে। কিন্তু নেই পাঠাগারের প্রাণ, নিয়মিত বই পাঠ, বই লেনদেন বা লাইব্রেরিমুখী শিক্ষার্থী। ফলে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা থমকে গিয়ে পাঠাগার কার্যক্রম রীতিমতো নিভু নিভু অবস্থায়।

উপজেলার একটি সরকারি স্কুল আর সাতটি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়সহ সব প্রতিষ্ঠানেই পাঠাগার রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয় ছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন করে ডিপ্লোমাধারী সহকারী গ্রন্থাগারিকও আছেন। আগে এসব গ্রন্থাগারিক প্রতিদিন লাইব্রেরিতে বসে বই লেনদেন করতেন, শিক্ষার্থীদের গল্প-উপন্যাস হাতে তুলে দিতেন। টিফিন পিরিয়ড ও ক্লাসের আগে-পরে পাঠাগারে থাকত সরব উপস্থিতি।

কিন্তু সরকার গ্রন্থাগারিকদের সহকারী শিক্ষক মর্যাদা দেয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা নিজেদের শ্রেণীচাপ কমাতে গ্রন্থাগারিকদের পাঠদানে যুক্ত করেন। ফলে যারা লাইব্রেরি পরিচালনায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, তারাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন ক্লাসে; আর লাইব্রেরির প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে যায়। অপরদিকে অনেক শিক্ষক বি.এডধারী হলেও লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনায় অনভিজ্ঞ। ফলে দুই পক্ষের দায়িত্বই আলগা হয়ে যায় এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় লাইব্রেরি কার্যক্রম।

গ্রন্থাগারিকদের অভিযোগ, ক্লাস রুটিনেই যখন লাইব্রেরি ঘণ্টা নেই, তখন নিয়মিত লাইব্রেরিতে বসা সম্ভব হয় না। ফলে বই লেনদেন, দৈনিক পত্রিকা পাঠ বা পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগও ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একসময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠাভ্যাস কর্মসূচি চালু থাকায় পাঠাগারগুলো ছিল সক্রিয়। কিন্তু কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় সেই গতি আরো কমে গেছে।

মানিকছড়ি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক ক্ষমা মল্লিক বলেন, লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই থাকলেও রুটিনে সময় না থাকায় বসাই যায় না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লাইব্রেরির তালা খুলতে হয় না। ডাইনছড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক আবু তাহের জানান, প্রতিদিন চারটি ক্লাস নেয়ার পর লাইব্রেরিতে বসার মতো সময় থাকে না।

অনেক গ্রন্থাগারিক জানান, রুটিনে লাইব্রেরি ঘণ্টা অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্লাসের চাপ কমানোর অনুরোধ করলেও অনেক সহকারী শিক্ষক তা মানতে চান না। ফলে সকালবেলা অল্প সময় কিছু শিক্ষার্থীকে বই দেয়া ছাড়া তাদের আর কিছু করার থাকে না। এতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি সীমিত হচ্ছে। বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা বা সৃজনশীল কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে তাদের শব্দভাণ্ডারের ঘাটতি স্পষ্ট ধরা পড়ে। শুধু পাঠ্যবই নির্ভর পড়াশোনা তাদের প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষায় পিছিয়ে দিচ্ছে।

মানিকছড়ি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান মনে করেন, পাঠাভ্যাস কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডারও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের বেশি পড়ায় উৎসাহ দিতে হবে বলে তিনি মত দেন। সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউল্লাহ জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকলেও গ্রন্থাগারিক পদ নেই। ফলে কার্যক্রম স্থবির। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এনসিটিবি ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিন লাইব্রেরি পিরিয়ড থাকার কথা। কোনো প্রতিষ্ঠান অনুসরণ না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।