কয়রায় জরাজীর্ণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে তালা সেবাবঞ্চিত ৫০ হাজার মানুষ

Printed Edition
bangla-1
কয়রায় জরাজীর্ণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে তালা সেবাবঞ্চিত ৫০ হাজার মানুষ

গোলাম রব্বানী কয়রা (খুলনা)

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার কয়রা-বেদকাশী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনবল সঙ্কটে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন ফার্মাসিস্ট শশাঙ্ক শেখর রায়। তিনি ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের আদেশে যশোর স্কুল হেলথ ক্লিনিকে বদলি হন। এরপর থেকে কেন্দ্রটিতে আর কোনো জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ভবনটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, তিন কক্ষবিশিষ্ট জরাজীর্ণ আধাপাকা টিনশেড ভবনটির ছাদে মরিচা ধরে বেশ কয়েকটি স্থানে ফুটো হয়ে আকাশ দেখা যাচ্ছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, মেঝেতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা দরজা-জানালা, নষ্ট বাথরুম ও প্যান ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে পুরো ভবনটি।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৫০-এর দশকে এলাকায় দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে স্থাপনা নির্মাণ হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৮২ সালে এটি সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা এখান থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতেন।

উত্তর বেদকাশীর বাসিন্দা অনিমেষ মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া সম্ভব নয়। ছোটখাটো অসুখ হলে এই কেন্দ্রেই চিকিৎসা নিতাম। এখন সেটাও বন্ধ।’

কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শেখ সালাউদ্দিন লিটন জানান, তার পরিবার দান করা জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মিত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং জনবল সঙ্কটে কেন্দ্রটি এখন কার্যত অচল। তিনি দ্রুত একজন চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানান।

কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে অন্তত প্রাথমিক সেবা পাওয়া যেত। জনবল না থাকায় পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, কেন্দ্রটির ভবন নির্মাণ ও জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন দফতরে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রেজাউল করিম জানান, ‘জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।’