যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া-ইসরাইল বিশ্বে নতুন আগ্রাসী ব্যবস্থা চাপানোর চেষ্টা করছে : অ্যামনেস্টি

Printed Edition
onno-1
ফ্রানচেসকা আলবানিজ

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরাইলের নেতারা মিলে বিশ্বে এক নতুন আগ্রাসী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। আর বিশ্বের বাকি দেশগুলো তাদের রুখতে কাপুরুষোচিত আচরণ করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার তাদের বার্ষিক রিপোর্টে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।

লন্ডনে সংগঠনের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এই মন্তব্য করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে বলেন যে এই নেতারা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে গাজায় ইসরাইল বাহিনীর অভিযানে বিপুলসংখ্যক মানুষের লাশ উদ্ধার এবং অগণিত ফিলিস্তিনিকে বন্দী করার ঘটনায় মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। একই সাথে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে হাউছি বিদ্রোহীদের তৎপরতার ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় শক্তিশালী দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অ্যামনেস্টির মতে প্রভাবশালী দেশগুলোর এই আগ্রাসী মনোভাবের বিপরীতে অন্যান্য দেশের নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরাইলের নেতাদের ‘আগ্রাসী’ বলেও মন্তব্য করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব।

অ্যামনেস্টির বৈশ্বিক মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব নেতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এর বিপরীতে ‘নৈতিক দিকনির্দেশনাহীন’ এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি বেছে নিয়েছেন, যার মূলকথা হলো ‘যুদ্ধই শাসন করবে, কূটনীতি নয়’। অ্যাগনেস ক্যালামার্ড সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রিপোর্টটি এমন এক ‘চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে’ এসেছে, যা ৮০ বছর ধরে গড়ে ওঠা সবকিছু ‘ধ্বংস করে দিতে পারে’। উদ্বোধনী ভাষণে অ্যামনেস্টির মহাসচিব বলেন, ২০২৫ সালজুড়ে ট্রাম্প, পুতিন, নেতানিয়াহুসহ অনেক নেতা ব্যাপক আন্তর্জাতিক ধ্বংসলীলা, দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।

অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, এসব নেতা তাঁদের দমন-পীড়ন ও লোভের জন্য যা কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা ধ্বংস করছেন। সর্বজনীন মানবাধিকারের মূল ভিত্তির ওপর আক্রমণ করছেন। এমন ‘আগ্রাসী’ নেতাদের মোকাবেলার পরিবর্তে বিশ্বের বেশির ভাগ সরকার, বিশেষ করে ইউরোপের সরকারগুলো তোষণনীতি বেছে নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সঙ্ঘাত হলো এই নতুন ‘আগ্রাসী’ বিশ্বব্যবস্থার সর্বশেষ নজির, বলেন অ্যামনেস্টির মহাসচিব। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আইনের শাসন খর্ব করা নজিরবিহীন কর্মকাণ্ড’ পরিচালনা আর ‘ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলেছেন। তবে চীনকে ‘আগ্রাসী’ তালিকায় রাখেনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশটি ‘বেশ বিবেচক’ আচরণ করেছে। যদিও এ বিষয়ে সংগঠনটির প্রধান বলেন, ‘তা সত্ত্বেও দেশটি (চীন) মিয়ানমারে সামরিক জান্তা আর তাদের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছে। রাশিয়াকেও সমর্থন জানিয়েছে।’

ইসরাইলি বাহিনী পৃথিবীর নিকৃষ্টতম সেনাবাহিনী : জাতিসংঘ

মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, ইসরাইলি বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ। এক ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর ইসরাইলি সৈন্যদের নির্মম নির্যাতনের ভিডিও দেখে তিনি এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

আলবানিজ তার অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে উল্লেখ করেন যে তিনি যা দেখেছেন তার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবেই ইসরাইল বাহিনীকে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম সেনাবাহিনী বলছেন। গাজায় জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগ তুলে একটি আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট জমা দেয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমনকি তিনি সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন।

দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই জাতিসঙ্ঘ দূত জানান যে তার জীবন বর্তমানে চরম হুমকির মুখে রয়েছে। রিপোর্টটি প্রকাশের পর থেকে তিনি যে চাপ ও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন তাকে তিনি রোলার কোস্টার রাইডের সাথে তুলনা করেছেন। গাজায় ইসরাইল বাহিনীর অভিযানে অগণিত মানুষের লাশ উদ্ধার এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে বন্দী করার প্রেক্ষাপটে তিনি জানান যে তাদের কর্মকাণ্ড সব সীমারেখা অতিক্রম করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে এক দিকে হাউছি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং অন্য দিকে ইসরাইল বাহিনীর এমন আচরণ বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।