ন্যাটো প্রধানের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ক্রেমলিন
‘রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের কথা বলা দায়িত্বজ্ঞানহীন’
Printed Edition
রয়টার্স
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রশাসন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। রুটে সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেছেন, ন্যাটোকে রাশিয়ার সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এ মন্তব্যে ক্রেমলিন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। এ ধরনের বক্তব্য ইউরোপে অযথা উত্তেজনা বাড়ায়।” তিনি আরো বলেন, রাশিয়া ন্যাটোর সাথে সরাসরি সঙ্ঘাতে যেতে চায় না, তবে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
নেদারল্যান্ডসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে সম্প্রতি ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোকে আরো শক্তিশালী হতে হবে এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার এই মন্তব্যকে পশ্চিমা দেশগুলো সতর্কবার্তা হিসেবে দেখলেও রাশিয়া এটিকে উসকানিমূলক বলে দাবি করছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন চলমান থাকায় ন্যাটো সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে এবং পূর্ব ইউরোপে সেনা মোতায়েন জোরদার করছে। রাশিয়া বলছে, ন্যাটোর এই পদক্ষেপ তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। অন্যদিকে ন্যাটো দাবি করছে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা ও ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় এ পদক্ষেপ জরুরি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুটের বক্তব্য ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে ঐক্য জোরদার করার উদ্দেশ্যে দেয়া হলেও এটি রাশিয়ার সাথে উত্তেজনা আরো বাড়াতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু নেতা সতর্ক করে বলেছেন, অযথা যুদ্ধের ভাষা ব্যবহার করলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সঙ্কুচিত হবে।
ক্রেমলিনের তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, ন্যাটো ও রাশিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। রুটের বক্তব্য পশ্চিমা দেশগুলোতে সমর্থন পেলেও রাশিয়ার দৃষ্টিতে এটি অযথা উসকানি। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো-রাশিয়া সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে উঠছে।