ঢাকার পরে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে জেলা উপজেলায়

Printed Edition

আবুল কালাম

ঢাকার পরে জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে দূষণ। বিগত কয়েক বছরে দূষণে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষে থাকলেও এবার তা বিভাগীয় শহর ও জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারখানার ও যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা, অপ্রশস্ত রাস্তা, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, বর্জ্য পোড়ানো এবং উত্তর ভারত থেকে আসা ধুলোবালু ও ধোঁয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে।

বাইরের নগরীতে ছড়িয়ে পড়া দূষণ নিয়ে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার বলছে বায়ুর মান ২০০ এর বেশি হলে তাকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর ৩০০ এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ। চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে প্রতিদিন ঢাকার বায়ুর মান খুব অস্বাস্থ্যকর থাকছে। তা এখন ছড়িয়ে পড়ছে বাইরের নগরীতে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খুলনা, গাজীপুর, সাভার, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ একাধিক জেলা। আর অব্যাহত দূষণে গতকালও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা।

পরিবেশ বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও মানারাত ইন্টার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেছেন, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরে শীতকালে উত্তর দিক থেকে আসা বাতাস ভারতের সমভূমির ধুলো ও ধোঁয়া নিয়ে আসে যা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে করে বিগত কয়েক বছর ঢাকা মারাত্মক দূষণে পড়লেও এখন তা বিভাগীয় শহর জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে দিন দিন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে হচ্ছে। এতে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহের মতো বড় শহরগুলো।

অনেক আগেই ঢাকা বাসযোগ্যতা হারিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন রাজধানীর বাইরে মানুষ সরছে। এতে করে দিন দিন সবুজায়ন, নদী নালা, জলাধার কমছে। ফলে ঢাকা থেকে এখন জেলা উপজেলায় দূষণ ছড়াচ্ছে। এতে করে একসময় পরিবেশ বিপর্যয়সহ নানান কারণে পুরো দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়বে।

চলতি মাসের ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে জানায়, দূষণে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশকে বায়ু দূষণের মূল উৎস হিসেবে দাবি করে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত আইজিপি-এইচএফ দেশগুলো বায়ু দূষণের মূল উৎস। এর মধ্যে রয়েছে রান্না ও গরম করার জন্য কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তি ছাড়াই জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈববস্তুপুঞ্জ পোড়ানো, অদক্ষ অভ্যন্তরীণ দহন যানবাহন ব্যবহার করা, কৃষকদের ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং অদক্ষভাবে সার ও সার ব্যবস্থাপনা করা এবং পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্জ্য পোড়ানো। এসব কারণে এসব অঞ্চলে বাড়ছে দূষণ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপসের চেয়ারম্যান পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর শীতকালে উত্তর দিক থেকে আসা বাতাস ভারতের সমভূমির ধুলো ও ধোঁয়া নিয়ে আসে, যা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে করে বিগত কয়েক বছর ঢাকা মারাত্মক দূষণে পড়লেও এখন তা বিভাগীয় শহর জেলা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে দিন দিন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে হচ্ছে। এতে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহের মতো বড় শহরগুলো।

ঢাকার পর জেলা উপজেলায় দূষণ ছড়িয়ে পড়া ভয়ানক লক্ষণ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন আমরা গ্রামে গিয়ে নির্মল বাতাস খুঁজি। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় আর বিশুদ্ধ বাতাস বলে কিছু থাকবে না। এ অবস্থায় অবশ্যই জনসাধারণকে অন্তত জরুরি বার্তা দেয়া উচিত। কিন্তু অশঙ্কার বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে এ বিষয়ে জোরালো কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষ্য কোনো এলাকায় টানা তিন দিন ৩ ঘণ্টা ধরে একটানা বায়ুর মান ৩০০ এর বেশি থাকলে সেই এলাকায় স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারি করা উচিত।