সম্পত্তির লোভে ফাঁদ পেতে বাবাকে খুন
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মজিবুর রহমান খানকে অপহরণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। পিবিআই জানিয়েছে দুই বছর আগেই মজিবুরকে ছেলে মাহাম্মদ বেলাল হোসেন (৩২) ফাঁদ পেতে অপহরণের পর হত্যা করেছিল। পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং জমি বিক্রিতে বাধা দেয়ার জেরে নিজের বাবাকে প্রেমিকা ও সহযোগীর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বেলাল। পরে লাশ ফেলে দেয়া হয় বঙ্গোপসাগরের পাড়ে জঙ্গলে। যেটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম।
সোমবার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। গত ১৩ ও ১৪ জুন পৃথক অভিযানে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগী আব্দুল জলিলকে গ্রেফতারের পর এই লোমহর্ষক হত্যার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, বাঁশখালী থানার পূর্ব চাম্বল গ্রামের বাসিন্দা মীর মজিবুর রহমান খান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন এবং জীবনে ৩টি বিয়ে করেন। ২০২২ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ছিলেন। পরে তিনি নিজের কিছু জমি বিক্রি করে মেয়ে সালমা খানমকে টাকা দেয়ায় ক্ষুব্ধ হন প্রথম স্ত্রীর সন্তান বেলাল হোসেন। এরপর মজিবুর রহমান পৈতৃক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আরো প্রায় ২ কানি জমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে বেলাল তাকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার আগে সিএনজি অটোরিকশাচালক বেলাল তার প্রেমিকা (তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হয়নি) ও স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী আব্দুল জলিলকে এই ষড়যন্ত্রে শামিল করে।