হেরে সব আশাই শেষ আফঈদাদের

উজবেকিস্তান ৪-০ বাংলাদেশ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জিতলে আশা জিইয়ে থাকবে। হারলে বা ড্র করলেই শেষ। আর জয়টা যদি হয় ৫-০তে তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই সমীকরণ নিয়েই গতকাল নারী এশিয়ান কাপে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার পার্থের মাঠে তাদের পক্ষে জয়তো দূরের কথা ড্রও করা সম্ভব হয়নি। উল্টো উজবেকিস্তানের কাছে ০-৪ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে নারী এশিয়ান কাপ থেকে। এই হারে শেষ হয়ে গেল আগামী বছর বিশ^কাপে খেলা এবং ২০২৮ এর অলিম্পিক গেমসে খেলার আশা। অন্য দিকে ‘এ’ গ্রুপের দল ফিলিপাইনকে টপকে ‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য ন্যূনতম ৪ গোলের ব্যবধানে জয়ের বিকল্প ছিল না উজবেকিস্তানের। সেই ৪-০ গোলের জয়ই পেয়েছে মধ্য এশিয়ান দেশটি। ফলে বাংলাদেশকে খালি হাতে দেশে ফিরিয়ে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপের নক আউটে গেল উজবেক মেয়েরা। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ০-১ গোলে পিছিয়ে থাকলেও বিরতির পর আরো তিন গোল হজম করে। এতে তিন ম্যাচে লাল-সবুজদের জালে গেল ১১ গোল।

বাংলাদেশ যদি ৫ গোলে জিততে না পেরে ১-০, ২-০, ৩-০ বা ৪-০ গোলে জিততো তাহলে আজ ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। আফঈদা খন্দকার প্রান্তি, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমারা দেশবাসীকে আর সেই অপেক্ষায় রাখেননি। নিজেরাই চার গোল হজম করে রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে উজবেকিস্তানকে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৪৯-এ থাকা দলটির বিপক্ষে ১১২তে থাকা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এই প্রথম মোকাবেলা।

কোচ পিটার বাটলার এই আসরে তিন ম্যাচের কোনোটিতেই সেরা একাদশ মাঠে নামাতে পারেননি। একেক দিন একেক একাদশ। গতকাল একাদশে তিন পরিবর্তন। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে খেলা একাদশ থেকে বাদ দেয়া হয় আইরিন খাতুন, নবীরন খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে। প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নানা সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পান। একাদশে আসেন উমেহেলা মারমা এবং স্ট্রাইকার তহুরা খাতুন। এদের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ পুরো প্রথমার্ধে সমান তালেই লড়ছিল উজবেকিস্তানের সাথে। তবে ১০ মিনিটে গোল হজম করে সেই যে পিছিয়ে পড়া এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দিয়েরাখন খাবিবুলায়েভার শটে পরাস্ত বাংলাদেশ কিপার মিলি আক্তার। এর আগে ম্যাচের ৫ মিনিট বয়সে বাংলাদেশ ম্যাচে লিড নিতে পারেনি তহুরা খাতুনের শট বাইরে যাওয়ায়।

পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ দল এরপর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। তবে কাক্সিক্ষত সেই গোলের দেখা আর হয়নি। কপাল মন্দ বাংলাদেশ দলের তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার। চীনের বিপক্ষে যেভাবে গোল বঞ্চিত ছিলেন তিনি। কালও একই স্টাইলে। ৩১ মিনিটে তার বক্সের বাইরে থেকে নেয়া দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন উজবেক কিপার মাফতুনা জমিনকুলোভা। পাসটি দিয়েছিলেন তহুরা খাতুন। এরপরপরই উমেহেলা মারমার পাস থেকে মনিকাও পারেননি বল জালে পাঠাতে। এরপর শামসুন্নাহার সিনিয়র, কোহাতি কিসকু, মারিয়া মান্ডারা ব্যর্থ হয়েছেন আসরে একটি গোল করতে। ৪১ মিনিটে সুইডেন প্রবাসী আনিকার শটও জালের সন্ধান পায়নি। খুব কাছে থেকেই গোলের চান্স মিস করেন। ৩২ মিনিটে মিলি আক্তার দুর্দান্ত সেভ করলে দ্বিতীয় গোলের হাত থেকে রক্ষা।

বিরতির পর আবারো চড়াও হয়ে খেলা বাংলাদেশের। তবে মনিকা, ঋতু, আনিক, মারিয়ারা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেননি। ৬০ মিনিট পর্যন্ত এই চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হওয়ার পর ৬২ ও ৬৬ মিনিটে আরো দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। দু’টি গোলই দিলদোরা নাজিরোভার। এতেই শেষ হয়ে যায় সব আশা। দ্বিতীয় গোলের পরপরই কোচ বাটলার মাঠ থেকে আনিকা ও শিউলী আজিমকে তুলে নেন। মাঠে নামান সৌরভী আকন্দ প্রীতি ও হালিমাকে। এরপরই তৃতীয় গোল। ৮২ মিনিটে প্রীতি ও ৮৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ৮৮ মিনিটে বাংলাদেশের জালে চতুর্থ গোল। গোলদাতা নিলুফার খোদারোভা।