৭৫ কোটি টাকা প্রতারণার ফাঁদ থেকে রক্ষা পেলেন গাজীপুরের ডিসি, গ্রেফতার ৩
Printed Edition
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
৭৫ কোটি টাকা প্রতারণার চেষ্টা ভণ্ডুল করে দিয়েছেন গাজীপুরের ডিসি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ৭৫ কোটি টাকার ভুয়া ঋণ সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ওই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পলাতক রয়েছে আরো কয়েকজন।
জানা গেছে, বুধবার দুপুরে দুই ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিজেদের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তারা নাম-ঠিকানাসহ স্বাক্ষরবিহীন দু’টি ‘সম্মতিপত্র’ উপস্থাপন করে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর নিতে চাপ প্রয়োগ করে। ওই তথাকথিত চুক্তিপত্রে ৬৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ, ১০ কোটি টাকা সার্ভিস চার্জসহ মোট ৭৫ কোটি টাকা এবং ১৮ মাসে ১৫০ কোটি টাকা পরিশোধের অস্বাভাবিক শর্ত উল্লেখ ছিল যা দেখে জেলা প্রশাসকের সন্দেহ হয়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করে এবং আরো কয়েকজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে অভিযানের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গুলিস্তান এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ব্ল্যাংক চেক, স্ট্যাম্প ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের মো: মোর্শেদ আলম (৪৫), কুমিল্লার মুরাদনগরের মো: নজরুল ইসলাম (৪৮) এবং বগুড়া সদরের মো: সাব্বির আলী (৪৫)। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী গোলাম রসুল বাদি হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি রংপুরের মাহিদুল মাইদুল ইসলাম (৪০) ও ভোলার মাজহার উদ্দিন মাজেদ (৩০) বর্তমানে পলাতক।
গাজীপুর সদর থানার ওসি, মো: আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে কোটি টাকার লেনদেনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তারা জাল দলিল, ব্ল্যাংক চেক ও মিথ্যা চুক্তিপত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণা করত।
তিনি আরো জানান, মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।