আবু শাবাবের মৃত্যুতে ইসরাইলের গাজা পরিকল্পনা ভণ্ডুল
আল জাজিরার বিশ্লেষণ
Printed Edition
গাজায় ইসরাইল যে দখলদারবান্ধব ফিলিস্তিনি প্রশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, মিলিশিয়া নেতা ইয়াসের আবু শাবাবের মৃত্যু তাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। আবু শাবাবকে কেন্দ্র করে ইসরাইল রাফাহ ও দক্ষিণ গাজায় নতুন ক্ষমতা কাঠামো দাঁড় করানোর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে তার নিজের গোত্রই তাকে ইসরাইলের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করায় উদ্যোগটি এখন কার্যত বিফলে গেছে।
তারাবিন গোত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়াসের আবু শাবাবের মৃত্যু আমাদের গোত্রের ইতিহাস বা নীতি প্রতিফলিত করে না। এই অধ্যায়ের ইতি ঘটায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। গোত্রের নাম বা সদস্যদের দখলদার শক্তির স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হবে না। এ বিবৃতির মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয় যে পরিবার ও গোত্র, উভয়ই তাকে একজন ইসরাইলি সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করেছে।
আবু শাবাবের মৃত্যু নিয়ে উঠে এসেছে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেউ বলছে তাকে হামাস গুলি করেছে, আবার কারো মতে গোত্রের লোকজনই তাকে শাস্তি দিয়েছে। পরে তাকে ইসরাইলি একটি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। ইসরাইল পুরো ঘটনাকে ‘গোত্রীয় সংঘর্ষ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও স্থানীয়রা এটিকে (ইসরাইলকে) সহযোগিতার শাস্তি হিসেবেই দেখছে।
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই আবু শাবাব ইসরাইলি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে অভিযানে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা, ইসরাইলি বন্দী খোঁজা, গাজায় প্রতিরোধ কর্মীদের টার্গেট করা এবং মানবিক সহায়তা ট্রাক লুটের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, তাকে রাফাহর সম্ভাব্য গভর্নর হিসেবে বিবেচনায়ও নিয়েছিল ইসরাইল।
বিশ্লেষকদের মতে, অবু শাবাবকে কেন্দ্র করে যে প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছিল ইসরাইল, তার মৃত্যু সেই পরিকল্পনার ভঙ্গুরতা প্রকাশ করেছে। ইতিহাসেও দেখা যায়, দখলদার শক্তির ওপর নির্ভর করে তৈরি স্থানীয় প্রশাসন ফিলিস্তিনিদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য হয়নি। ১৯৮০-এর দশকে পশ্চিমতীরে ইসরাইল ‘ভিলেজ লিগ’ নামে যে কাঠামো গড়ে তুলেছিল, তা কয়েক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়ে, কারণ স্থানীয় জনগণ তাকে বৈধ কর্তৃত্ব হিসেবে মেনে নেয়নি।
গাজায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। ইসরাইল বিপুল অর্থ, অস্ত্র ও সুরক্ষা দিলেও আবু শাবাব তার নিজের গোত্রের সমর্থনও আদায় করতে পারেননি, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা। তিনি দলে টেনেছেন কেবল বিচ্ছিন্ন উগ্রপন্থী, অপরাধী ও আগের সহযোগীদের। এতে তার ব্যক্তিগত প্রভাব বাড়লেও কোনো সামাজিক বৈধতা তৈরি হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, আবু শাবাবের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা ছিল অপরাধ ও লুটের ওপর দাঁড়ানো। তার ভিডিওতে দেখানো মানবিক ভূমিকা মূলত ছিল লুট করা ত্রাণ বিতরণের প্রচার, যা মানুষ ঘৃণার নজরেই দেখেছে। ফলে তাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি কোনো নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল না।