ছাগলনাইয়ায় ‘রকেট লঞ্চার নাটক’ ভেস্তে দিলো প্রশাসন

Printed Edition

ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা

ফেনীর ছাগলনাইয়ার ঘোপাল এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে এক কর্মজীবী যুবককে অপহরণ ও মারধরের পর ‘রকেট লঞ্চারসহ শিবির নেতা’ হিসেবে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে গভীর রাতে ওই যুবককে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ছেড়ে দেয়া যুবকের নাম সামছুল আরেফিন (৩২)। তিনি ফেনী-১ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বারইয়ার হাটে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন যুবক সামছুল আরেফিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হাত বেঁধে মারধর করে। এরপর তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শিবির নেতা রকেট লঞ্চারসহ আটক’- এমন প্রচার চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছু ব্যক্তি তাকে ঘিরে মিছিলও করে এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ফেনী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে সামছুল আরেফিনের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় এবং অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় সামছুল আরেফিনের বাবা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বাদি হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর সিদ্দিকী, মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী রাকিব, ইমরান নাজির রাব্বি, শাহাদাত হোসেন পাটোয়ারি, মেজবাহ উদ্দিন রুবেলসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফেনী-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, মব সৃষ্টি করে একজন কর্মজীবী যুবককে ধরে নিয়ে জামায়াত ট্যাগ দিয়ে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে তুলে দেয়া ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো: শাহীন মিয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।