শাহজাদপুরের বিস্তীর্ণ মাঠে সরিষার আবাদ বিঘাপ্রতি লাভ ১৩ হাজার টাকা
Printed Edition
আবুল কাশেম শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন চোখে পড়ছে হলুদ সরিষা ফুলের অপূর্ব সমাহার। চলতি মৌসুমে সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় উপজেলার কৃষকেরা বেশ লাভবান হয়েছেন। কম খরচে বেশি মুনাফার সুযোগ থাকায় দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।
আমাদের দেশে সাধারণত তিন ধরনের সরিষা চাষ হয়ে থাকে দেশী সরিষা, সেতী সরিষা ও রাই সরিষা। রাই সরিষা স্থানীয়ভাবে ‘রাই মাল’ নামেও পরিচিত। উঁচু জমি, মাঝারি উঁচু জমি ও নিচু জমি- এ তিন শ্রেণির জমিতেই সরিষার আবাদ করা হয়। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পলি মাটিতে বীজ ছিটিয়েই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরিষা বপন করা হয়। কোথাও পলি মাটিতে বীজ ছিটানোর সুযোগ না থাকলে জমি হালকা চাষ করে বীজ বপন করা হয়।
রাই সরিষার ক্ষেত্রে কৃষকেরা বর্ষা শেষে খেসারি চাষের জমিতে বীজ ছিটিয়ে দেন। এতে একই জমিতে একসাথে গো-খাদ্য, খেসারি ডাল ও রাই সরিষার ফলন পাওয়া যায়। নিচু জমির পলি মাটিতে ছিটিয়ে যে সরিষার চাষ হয়, তাকে নাবি সরিষা বলা হয়। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে সরিষা কাটার পর সময়মতো ইরি ধান রোপণ করা গেলেও নাবি জমিতে ইরি ধান চাষে দেরি হয়। ফলে আগাম বা দ্রুত বর্ষা হলে ওই ধান ডুবে যাওয়ার ঝুঁঁকি থাকে।
তবে সব দিক বিবেচনায় সরিষা চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক। কারণ, এ ফসলে বীজ ও সামান্য সার ছাড়া বাড়তি কোনো খরচ নেই। সরিষা কাটার পর একই জমিতে ইরি ধান চাষ করলে আগের ছিটানো সারের কার্যকারিতাও ধানে কাজে লাগে। কৃষক শফিউদ্দিন ও মানিক মণ্ডল জানান, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে দেশী সরিষা চার থেকে পাঁচ মণ, সেতী সরিষা সাত থেকে আট মণ এবং রাই সরিষা চার থেকে সাড়ে চার মণ পর্যন্ত ফলন হতে পারে।
বর্তমানে বাজারে দেশী ও রাই সরিষার দাম প্রতি মণ প্রায় চার হাজার টাকা এবং সেতী সরিষার দাম ৩৭০০-৩৮০০ টাকা। দেশী ও রাই সরিষা চাষে বিঘা প্রতি খরচ ছয় থেকে সাত হাজার টাকা হলে লাভ থাকে প্রায় আট থেকে ৯ হাজার টাকা। আর সেতী সরিষা চাষে বিঘা প্রতি খরচ নয় থেকে দশ হাজার টাকা হলেও লাভ দাঁড়ায় প্রায় ১৩-১৪ হাজার টাকা।
সরিষা শুষ্ক ও রৌদ্রযুক্ত আবহাওয়ায় ভালো হয়। তবে অতিরিক্ত শীত, বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশে মেঁদী পোকার আক্রমণ বেড়ে যায় এবং গাছ মাটিতে পড়ে পচে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। শাহজাদপুরের এক পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় সব মাঠেই সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে পোরজনা ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামে চাষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি বছর উপজেলায় ১৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার হেক্টর। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় ফলন কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।