জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে সমন্বয় সভা
Printed Edition
চট্টগ্রাম ব্যুরো
জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং বিষয়ে সমন্বয় সভা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। বন্দরের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে রোববার অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে জাহাজের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।
সভার শুরুতে বন্দর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রামে আসা জাহাজগুলোর অধিকাংশ বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক হওয়ায় বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে নগণ্য। তিনি জ্বালানি সরবরাহ আরো শক্তিশালী করতে এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিয়মিত ও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পরিলতি হচ্ছে। বিশেষ করে কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা পাঁচটি এলএনজি এবং দুইটি এলপিজিবাহী বিশাল জাহাজসহ বর্তমানে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থান করছে অথবা আগমনের পথে রয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি এই জাহাজগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন চিত্র তুলে ধরে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এই জাহাজগুলোর ধারাবাহিক আসা এবং দ্রুত বার্থিং ব্যবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সভায় বন্দরের সব সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিসির প্রতিনিধি, নৌপরিবহন অধিদফতরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধি, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, বাংলাদেশ ওশেনগোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডেলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন।
তারা জানান, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পূর্ণ সমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সব স্টেকহোল্ডারের সমন্বয়ে কার্যকর ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেয়া হবে। চবক কর্তৃক বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমসহ সব লজিস্টিক সাপোর্ট আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত সব জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা দেয়ার জন্য সব আইন শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করা হয়েছে।