বিদেশী কোম্পানিকে এনসিটি দেয়ার প্রক্রিয়া আইনসম্মত, রিট খারিজ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেয়ার প্রক্রিয়া আইনসম্মত বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই চুক্তি-প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। এর ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সাথে বন্দর কর্তৃপরে চুক্তি প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, দুবাই সরকারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সাথে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপরে সমঝোতা স্মারকটি আইন মেনেই সম্পাদিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়, ২০১৭ সালের প্রকিউরমেন্ট পলিসি অনুযায়ী কর্তৃপ সরাসরি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার মতা রাখে। যেহেতু এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেয়া হয়নি, তাই রিট আবেদনটি ‘অপরিণত’ বা ‘অপরিপক্ব’ হিসেবে গণ্য করে আদালত এটি খারিজ করে দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব শুনানি করেন। সাথে ছিলেন আইনজীবী মো: আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপে অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল অনীক আর হক শুনানি করেন। বন্দর কর্তৃপরে পে আইনজীবী মো: হেলাল উদ্দিন চৌধুরী শুনানি করেন। বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিমের পে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে অংশ নেন।

রায়ের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপরে পরে আইনজীবী হেলাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ েেত্র ২০১৫ সালের পিপিপি অ্যাক্ট, ২০১৭ সালের জিটুজি পলিসি ও ২০১৮ সালের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন, অর্থাৎ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে রায়ে এসেছে। এখানে আইনবহির্ভূত কিছু নেই। আর ডিপি ওয়ার্ল্ড সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারেরই কোম্পানি। এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপরে সমঝোতা স্মারক হয়। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপরে চুক্তি সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন।

রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়। ২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সাথে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপরে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সাথে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান।

চালু এই টার্মিনাল বিদেশীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেয়ার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। ২০০৭ সালে এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপ ধাপে ধাপে মোট দুই হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার আগ পর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।