জাল সনদে চাকরি করে অর্থ লোপাট ৯০ কোটি টাকা ফেরত চায় ডিআইএ
Printed Edition
শাহেদ মতিউর রহমান
বিভিন্ন অভিযোগে ৯৭৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)। বিশেষ করে জাল সনদে শিক্ষকতা পেশায় চাকরি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি বড় অঙ্কের অর্থ লোপাটেরও প্রমাণ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল রোববার সারা দেশে অভিযুক্ত এমন ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাও প্রকাশ করেছে ডিআইএ। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে জাল সনদে শিক্ষকতায় চাকরি নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটেরও প্রমাণ পেয়েছে। তাই সরকারি এই অর্থ ফেরত চায় ডিআইএ।
সূত্র জানায় অভিযুক্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরেও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবরে ই-মেইলে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসের ডি-নথি সিস্টেমে পাঠানো হয়েছে। ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ই-মেইলেও (ব্যানবেইস জরিপে প্রদত্ত ঠিকানায়) প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম জানান, আজ রোববার (গতকাল)
প্রকাশিত এই তালিকায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে জাল বা ভুয়া সনদ, অগ্রহণযোগ্য সনদ, অবৈধ নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ, ভ্যাট-আইটিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আরো জানান, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো মোট ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন তালিকা ডিআইএর ওয়েবসাইট (িি.িফরধ.মড়া.নফ)-এর নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ই-মেইলে প্রতিবেদন না পেয়ে থাকে তাহলে তাদের নিজ নিজ জেলা শিক্ষা অফিসের ডি-নথি সিস্টেম থেকে তা সংগ্রহ করতে পারবে। সেখান থেকেও পাওয়া না গেলে প্রতিষ্ঠানের লেটারহেডে পরিচালক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর বরাবরে আবেদন করে তার অনুলিপি ফরৎবপঃড়ৎ@ফরধ.মড়া.নফ ঠিকানায় পাঠাতে হবে। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ই-মেইলে আবেদন পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে পুনরায় প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ডিআইএ সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের কারণে অভিযুক্ত এই ৯৭৩ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের নির্দেশনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা বিভিন্ন সময়ে বেহাত হওয়া প্রায় ১৭৬.৫২৩ একর জমি উদ্ধারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জাল সনদে চাকরি করা এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হিসেবে নেয়া অর্থসহ, ভুয়া নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভ্যাট ও আইটিসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের কারণে ৯০ কোটি টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে।