অস্ট্রেলিয়ায় দুই রাজ্যে দাবানলে ঘরবাড়ি ধ্বংস, দমকল কর্মীর মৃত্যু

Printed Edition

রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলস ও দ্বীপরাজ্য তাসমানিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবানলে অনেকগুলো বাড়ি ধ্বংস হয়েছে ও এক দমকল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দমকল কর্মী সিডনির উত্তরে বিস্তৃত তৃণভূমিতে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছিলেন, তখন একটি গাছ তার ওপর পড়লে তিনি আঘাত পান। জরুরি বিভাগের কর্মীরা খবর পেয়ে সিডনি থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তরে মফস্বল শহর বুলাডেলার কাছে ওই তৃণভূমিতে হাজির হন।

পরে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৫৯ বছর বয়সী এই দমকল কর্মী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এক দমকল কর্মীর এই মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। শনি ও রোববার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল নিউ সাউথ ওয়েলসের সেন্ট্রাল কোস্ট অঞ্চলের ১৬টি বাড়ি ধ্বংস করে। সিডনির নিকটবর্তী এই শহরতলীতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ বসবাস করেন। এই অঞ্চলের দাবানল ক্ষতিগ্রস্ত শহর কুলইওংয়ের বাসিন্দা রোশেল ডাউস্ট জানিয়েছেন, আগুন এগিয়ে আসার সময় তিনি ও তার স্বামী তাদের বাড়িটি রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। বাড়িটিতে তাদের সবকিছু ছিল আর সেগুলো সব পুড়ে গেছে। বাড়িটি রক্ষা করতে গিয়ে তার স্বামী জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন; কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

রোববার দিবাগত রাতে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসে। ফলে কর্মকর্তারা দাবানল বিপদের সতর্কতা হ্রাস করেন। তবে আবহাওয়া দফতর সতর্ক করে বলেছে, রাজ্যটির অভ্যন্তরীণ কিছু শহরে তাপমাত্রা মঙ্গলবার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সোমবার নিউ সাউথ ওয়েলসের তৃণভূমি অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে ৫০টিরও বেশি দাবানল সক্রিয় ছিল। অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপরাজ্য তাসমানিয়ার রাজধানী হোবার্টের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ডলফিন স্যান্ডসে ১৭২৯ একর এলাকাজুড়ে আরেকটি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এই দাবানলে ১৯টি বাড়ি ধ্বংস ও আরো ৪০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও পরিস্থিতি এখনো বিপজ্জনক থাকায় বাসিন্দাদের এলাকায় না ফেরার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল। এই সময় দেশটির তৃণভূমি অঞ্চলে প্রায়ই বড় ধরনের দাবানল শুরু হয়। চলতি বছর দেশটির বিশাল এলাকাজুড়ে তাপমাত্রা তীব্রতর হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকায় কর্তৃপক্ষ দাবানলের উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।