সিলেটে গ্রাহক ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন
লুটেরাদের পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো
পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়, দেশের ব্যাংকিং খাতকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। এস আলম ও বেক্সিমকোসহ একাধিক লুটেরা কোম্পানি ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের স্টাইলে লুটেরা ও পাচারকারীদের পুনর্বাসনের জন্য আইন পরিবর্তন করেছে। সরকার তিন কোটি গ্রাহকের আস্থার জায়গা ইসলামী ব্যাংকে এস আলমকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীতে ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা উপরিউক্ত কথা বলেন। পরিষদের সমন্বয়ক ফাতির আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কবির আহমদের পরিচালনায় নগরীর তালতলাস্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক গ্রাহক অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে সরকারের প্রতি ৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবি গুলো হলো- ১. ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬-এর বিতর্কিত ধারা বাতিল করতে হবে। ২. এস আলম গংদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৩. প্রকৃত শেয়ার মালিকদের হাতে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্ব ফেরত দিতে হবে। ৪. পাচারকৃত অর্থ ফেরত এবং পাচারকারীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট রহমত আলী, বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম, বদরুল আমিন হারুন, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন শামীম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন, আব্দুল কাদির, আব্দুল হামিদ ও শরীফ উদ্দিন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশে প্রথম ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাংকটি শুধু দেশে নয়, গোটা বিশে^ সুনাম অর্জন করে।
কিন্তু পতিত হাসিনা সরকার তার বাহিনী দিয়ে রাতের আঁধারে ব্যাংক পরিচালকদের তুলে নিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ইসলামী ব্যাংকটি ডাকাত এস আলমের হাতে তুলে দেয়। আর সেই সুযোগে এস আলম গ্রুপ একাই ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এই ষড়যন্ত্র আমরা সচেতন ব্যাংক গ্রাহকরা সফল হতে দেবো না।