রংপুরে ব্যানার ফেস্টুন উচ্ছেদ অভিযান

তোপের মুখে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

রংপুর মহানগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ে অবৈধ ব্যানার ফেস্টুন উচ্ছেদ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বাঁধার মুখে পড়েছে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অভিযান পরিচালনাকারী দল। এ সময় তাদের সাথে তুমুল বাগি¦তণ্ডা হয় ব্যবসায়ীদের।

গতকাল সকালে টাউন হলের সামনে থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো: কাউসার আহমেদ ও রংপুর সিটি করপোরেশনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহরিয়ার রহমানের নেতৃত্বে ব্যানার অপসারণ ও ফুটপাথ দখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। টাউন হল, সিটি ভবন, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, পায়রা চত্বরের বিভিন্ন ব্যানার ও সাইনবোর্ড অপসারণ করে জাহাজ কোম্পানি মোড়ে অভিযান পরিচালনা করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেসার্স রমজান কালেকশন দোকানের উপরে স্থাপিত বিলবোর্ড খুলে ফেললে দোকানের মালিক মো: রমজান আলীসহ পার্শ্ববর্তী দোকানদাররা তাতে বাধা দেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ব্যবসাীয়রা। শুরু হয় তুমুল বাগি¦তণ্ডা।

এ সময় রমজান আলী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহানকে ল্য করে বলতে থাকেন, পাশের সারা কাপড়ের দোকান, কাচ্চি ডাইনের সাইনবোর্ডও বাইরে আছে। সেগুলো অপসারণ না করে আমার টা করা হলো কেন। সব করতে হবে, না হলে আমারটাও করতে পারবে না। এ নিয়ে সেখানে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হাত উঁচিয়ে শাসাতেও দেখা যায় তাদের। পরে সাইনবোর্ড পুনঃ স্থাপনের প্রতিশ্রুতিতে ব্যবসায়ীরা তাদের স্থান ত্যাগ করতে দেন।

এ ব্যাপারে দোকানি রমজান আলী বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে আমার দোকানের সাইন বোর্ড খুলে ফেলে। আমি বাধা দেয়ার কারণে ওনারা সবাই আসে। রংপুর শহরের আর কোথাও অভিযান চালায় নাই। অন্যদের কাছে ঘুষ খাইছে। আমার সাইন বোর্ড ঠিক করে দিতে হবে। আমার মানিব্যাগ ও গাড়ির কাগজপত্র, এনআইডি কার্ড ও টাকা পয়সা উদ্ধার করে দিতে হবে।’

এ ব্যাপারে অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান জানান, ‘আমরা প্রতি দিনের মতো অভিযান পরিচালনা করছি। রংপুর শহরের নিয়মবহির্ভূত এবং অবৈধভাবে সাঁটানো ব্যানার ফেস্টুন বিলবোর্ড আমরা উচ্ছেদ করছি। ফুটপাথের যারা অবৈধ দখলদার তাদেরকেও আমরা উচ্ছেদ করছি। কিন্তু আমরা উচ্ছেদ অভিযান চলাকালেই একজন ব্যবসায়ীর বিলবোর্ড অপসারণ করতে গেলে তিনি ােভ প্রকাশ করে বাধা দেন। তিনি বলেন, অন্যদেরটা বাদ পড়েছে। ওনার অভিযোগ সঠিক নয়। আমাদের অভিযান অব্যাহত। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। পর্যাপ্ত লজিস্টিক এবং মেশিনপত্র না থাকার কারণে ২/১ জনের সাইন বোর্ড অপসারণ কাজটা এখনই করতে পারি নাই। সেগুলোও অপসারণ করা হবে। দুই সপ্তাহ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি এই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার বিষয়টি দুঃখজনক। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, মহানগর পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোথাও কেউ বাধা তৈরির চেষ্টা করলে তা আইন মেনে সমাধান করা হবে। তিনি সবাইকে উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার এবং অযথা বাধা তৈরি করে অভিযান ব্যাহত না করারও আহ্বান জানান।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, ‘আইন মেনে ব্যানার ফেস্টুন সাঁটাতে হবে। যারা আইন মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো ধরনের বাধাকেও আমরা আইন মেনে প্রতিহত করবো।