হাদির ওপর হামলা নির্বাচন ও সংস্কার বানচালের ইঙ্গিত : গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট

Printed Edition

ঢাবি সংবাদদাতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদীর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলার ঘটনাকে নির্বাচন ও সংস্কার যাত্রা বানচালের গভীর চক্রান্তের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট।

জোটের নেতারা বলেন, এ হামলা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ভয়াবহভাবে নাজুক, তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমানে ওসমান হাদির জীবন সঙ্কটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের অন্তর্গত তিনটি দলের পক্ষ থেকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয় এবং হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বক্তব্য দেন- জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

নেতারা বলেন, গত ১৬ মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো কাক্সিক্ষত বা উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এমনকি সরকারের ভেতর থেকেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান ছিল না। তারা অভিযোগ করেন, যেভাবে টার্গেট করে ওসমান হাদির ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তা কেবল প্রশিক্ষিত শুটারদের পক্ষেই সম্ভব, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরো স্পষ্ট করে।

যৌথ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এর আগেও বরিশাল, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই নির্বাচনী প্রার্থীদের নাজেহাল করা, হামলা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রতিরোধ বা বিচারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যূনতম সক্ষমতা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ন্যূনতম তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা থাকলে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত না। পুলিশ ও প্রশাসন সংস্কার ব্যর্থ হওয়ার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

তারা ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে নির্বাচন বানচাল করার একটি চক্রান্ত সক্রিয় রয়েছে। অরাজকতা সৃষ্টি করে পরাজিত মাফিয়া গোষ্ঠীর দেশে ফেরার পথ সুগম করতে একটি চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

নেতারা সতর্ক করে বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যদি এখনই দায়িত্বশীল ও উদ্যমী ভূমিকা না নেয়, তাহলে সামনের দিনে পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। এমন অবস্থার দায় কেউই এড়াতে পারবে না বলেও জানান তারা।