লোহাগাড়ায় সূর্যমুখী চাষে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন কৃষকদের
Printed Edition
মোছাদ্দেক হোসাইন লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। অল্প সময়ে, কম খরচে এবং তুলনামূলক বেশি লাভের সুযোগ থাকায় দিন দিন এই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও কারিগরি পরামর্শে সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা কৃষকদের লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর এলাকার কৃষক মো: শাহাদাত হোসেন গত সাত বছর ধরে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে আসছেন। চলতি অর্থবছরে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে তিনি প্রায় ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। ক্ষেতজুড়ে ফুটে থাকা হলুদ রঙের ফুল শুধু চোখ জুড়াচ্ছে না, বরং সম্ভাবনাময় আয়ও এনে দেয়ার আশা জাগাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী একটি স্বল্পমেয়াদি ফসল। প্রতি বিঘা জমি আবাদ করতে প্রায় এক কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। দেড় ফুট অন্তর একটি করে বীজ বপন এবং সারি থেকে সারির দূরত্বও দেড় ফুট রাখতে হয়। বীজ বপনের ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। কম শ্রম ও কম খরচে ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষক মো: শাহাদাত হোসেন বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত আমার খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। আর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারব। আশা করছি প্রায় ৮০০ লিটার তেল উৎপাদন হবে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক আড়াই লাখ টাকা। তিনি জানান, নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা পেলে আগামী বছর আরো বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু জায়গায় হতাশার ছবিও দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পথচারীদের ফুল ছিঁড়তে নিষেধ করায় রাতের আঁধারে কয়েকটি সূর্যমুখী বাগান ভেঙে ফেলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হেমাঙ্গ বড়–য়া জানান, তিনি গত তিন বছর ধরে বাড়ির পাশের ১০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে আসছিলেন। পথচারীরা ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলতেন, যা তিনি আনন্দের সাথেই দেখতেন। কিন্তু ফুল ছিঁড়ে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে নিষেধ করায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে তার বাগানের সব গাছ ভেঙে ফেলেছে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সার, কীটনাশক সহায়তা ও নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। চলতি মৌসুমে তিনটি ইউনিয়নে সূর্যমুখী চাষে সহায়তা দেয়া হয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে আগামী দিনে এই উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ আরো সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোরও আশ্বাস দেন।
সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে লোহাগাড়ায় সূর্যমুখী চাষ স্থানীয় কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক ও টেকসই বিকল্প ফসল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে- এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।