নিজের গড়া দাতব্য সংস্থার করা মানহানি মামলার মুখে প্রিন্স হ্যারি
Printed Edition
দ্য গার্ডিয়ান
প্রিন্স হ্যারি বা ডিউক অব সাসেক্স তার নিজের প্রতিষ্ঠিত আফ্রিকান দাতব্য সংস্থা সেন্টিবেলের পক্ষ থেকেই মানহানির মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় শিশু ও তরুণদের নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি লন্ডনের হাইকোর্টে হ্যারি এবং সাবেক ট্রাস্টি মার্ক ডায়ারের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত বছর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পদত্যাগ করার পর থেকেই সংস্থার চেয়ারম্যান ডক্টর সোফি চান্দাউকার সাথে প্রিন্স হ্যারির বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। মূলত এর সূত্র ধরেই সংস্থাটি আইনি লড়াই শুরু করল। সেন্টিবেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে গত ২৫ মার্চ থেকে তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে যার ফলে সংস্থার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে।
এই প্রচারণার নেপথ্যে প্রিন্স হ্যারি ও মার্ক ডায়ার রয়েছেন বলে প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে আরো বলা হয় যে এই নেতিবাচক প্রচারণার কারণে অনলাইনে সংস্থা ও এর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং বা হয়রানি শুরু হয়েছে। ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সংস্থার কর্মী ও অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক নষ্টের চেষ্টাও করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া উপায় ছিল না বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী পরিচালক।
তবে এই মামলার খরচ বাইরের তহবিল থেকে নেয়া হচ্ছে এবং দাতব্য কাজের কোনো অর্থ এখানে ব্যয় করা হচ্ছে না। অন্য দিকে প্রিন্স হ্যারি ও মার্ক ডায়ারের মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে আপত্তিকর ও মানহানিকর উল্লেখ করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে প্রায় দুই দশক ধরে যারা এই সংস্থাটিকে গড়ে তুলেছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেই আইনি লড়াইয়ে নামা হয়েছে।
যেখানে এই অর্থ সেই শিশুদের সেবায় ব্যয় হওয়া উচিত ছিল যাদের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে ২০২৫ সালের আগস্টে চ্যারিটি কমিশন এই বিবাদের জন্য প্রিন্স হ্যারির সমালোচনা করেছিল তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদের অভিযোগ থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছিল। চেয়ারম্যান চান্দাউকা দাবি করেছিলেন যে তিনি অব্যবস্থাপনা এবং নারীর প্রতি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যদিও হ্যারির মুখপাত্র দাবি করেছেন যে সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ কোনো বর্ণবাদ বা নারী বিদ্বেষের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রিন্স হ্যারি তার মা ডায়ানার স্মৃতি রক্ষার্থে এই সংস্থাটি গড়ে তুলেছিলেন যা এখন চরম আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। ইসরাইল ও ইরানের চলমান অস্থিরতার মধ্যেও ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে।