২৪ লাখ ভোটারের রায়ে নির্ধারিত হবে নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ
বিভিন্ন দলের মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
Printed Edition
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনের মাঠ রয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ। প্রায় ২৪ লাখ ভোটারের রায়ে নির্ধারিত হবে জেলার আগামী দিনের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।
জুলাই বিপ্লবের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই নির্বাচন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাদের বিশ্বাস, একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২০ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ৬০২টি ভেনুতে ৭৯৭টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনের হিসাবে প্রায় ৫৬ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
জেলায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাসদ, সিপিবি, রিপাবলিকান পার্টিসহ বিভিন্ন দলের মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) : নতুন সীমানা অনুযায়ী নগরীর ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার চার লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন। ১৩০টি ভেনুতে ১৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন, বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, গণসংহতির তারিকুল ইসলাম সুজন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাছুম বিল্লাহসহ মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর আংশিক) : পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ ভোটার নিয়ে এ আসনে ৯৭টি ভেনুতে ১৭৭টি কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ৭৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ১১ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তাদের মধ্যে মনির হোসাইন কাসেমী, মোহাম্মদ শাহ আলম, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনসহ একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় বেশ সক্রিয়।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) : ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬। ১৫৫টি ভেনুতে ২১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত, যা এ জেলার মধ্যে সর্বাধিক। এখানে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজহারুল ইসলাম মান্নান, রেজাউল করিম, অঞ্জন দাস, আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সীসহ অন্যরাও প্রচারণায় সরব।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) : তিন লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ ভোটারের এ আসনে ১১১টি ভেনুতে ১১৮টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। নজরুল ইসলাম আজাদ, আতাউর রহমান আঙ্গুর ও মাওলানা মো: হাবিবুল্লাহসহ ছয়জন প্রার্থী লড়ছেন এ আসন থেকে।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) : চার লাখ আট হাজার ৮২৯ ভোটার অধ্যুষিত এ আসনে ১০৯টি ভেনুতে ১২৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ৭২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ও আনোয়ার হোসেন মোল্লার কার্যক্রম সবার নজর কেড়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলায় প্রায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আচরণবিধি তদারকিতে ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় প্রচারণায় নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী আবহ এখন তুঙ্গে। সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ২৪ লাখ মানুষের রায়ই ঠিক করে দেবে জেলার আগামী দিনের রাজনৈতিক মানচিত্র কেমন হবে।