জাহানারার তদন্ত প্রতিবেদনে নতুন মোড়

Printed Edition
khela-2
জাহানারার তদন্ত প্রতিবেদনে নতুন মোড়

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে জাহানারার অভিযোগের পর গত বছরের ৮ নভেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়। দীর্ঘ বিলম্বের পর চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন বিসিবির কাছে জমা পড়ে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, জাহানারার উত্থাপিত চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে কোন অভিযোগ দুটি প্রমাণিত হয়েছে এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রমাণ বা তথ্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। এই অস্পষ্টতাই জাহানারা পক্ষের প্রধান আপত্তির জায়গা।

জাহানারা আলমের উত্থাপিত যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিসিবি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী অভিযোগের আংশিক সত্যতা মিললেও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে দাবি করছেন জাহানারা ও তার আইনজীবীরা। আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জাহানারাকে কিছুই জানায়নি। অভিযোগকারী হিসেবে তদন্তের ফল জানার অধিকার থাকলেও তাকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা প্রতিবেদনের কপি দেয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যৌন হয়রানি, প্রতিশোধমূলক আচরণ এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের গোপনীয়তা হতাশাজনক।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, তদন্তে কিছু অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জাহানারা স্বস্তি বোধ করলেও বিসিবির অস্পষ্ট অবস্থানের কারণে তিনি হতাশ। বিসিবির কাছে ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে জানানো হয়, তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমানে বোর্ডের লিগ্যাল টিম পর্যালোচনা করছে। তবে প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারাকে দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

বিসিবির দাবি, তদন্ত কমিটি তাদের নিজস্ব উদ্যোগে গঠন করা হয়েছিল। তবে জাহানারা আলম এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তার করা যৌন হয়রানির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তদন্তের লক্ষ্যেই কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু আচরণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘হয়রানি’র সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।

বিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বোর্ডের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের ধরন এবং অভিযোগকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।