পাউবোর গড়িমসিতে সেচবঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় ৫০ হাজার কৃষক
Printed Edition
শাহজাহান সিরাজ কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় তিস্তা প্রধান সেচ ক্যানেলে পানি ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় প্রায় ৫০ হাজার কৃষক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর আবাদি জমিতে চলতি মৌসুমে সেচসুবিধা পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। গত ১ জানুয়ারি ক্যানেলে পানি ছাড়ার কথা থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গড়িমশি এবং ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের কারণে নির্ধারিত সময়ে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, নিরবচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জের রাজীব থেকে জলঢাকার দুন্দিবাড়ি পর্যন্ত তিস্তা প্রধান সেচ ক্যানেলের উভয় ডাইক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এ প্রকল্পে ১৬ কিলোমিটার অংশে মাটির কাজ ও রেগুলেটর এলাকায় ঢাল প্রতিরক্ষা কাজে মোট প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ঠিকাদারকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যানেল শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে মাটি আনার নিয়ম মানা হয়নি। অনেক স্থানে রোলার দিয়ে লেভেলিং ও ড্রেসিং না করেই তড়িঘড়ি করে মাটি ফেলে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিন্নাকুড়ি বাজার থেকে রাজীব অংশে উভয় ডাইকে এখনো শতাধিক ছোট-বড় ভাঙন রয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এ অবস্থায় পানি ছাড়লে যেকোনো সময় ক্যানেল ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
রেগুলেটর এলাকায় ঢাল প্রতিরক্ষা কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক জানান, মাটি যথাযথভাবে শক্ত না করেই ব্লক বসানো হয়েছে, ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ব্লক ধসে পড়ছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল, সাইদুল ইসলাম ও সপিয়ার রহমান বলেন, ক্যানেলের দুর্বল অবস্থা ঠিক না করে পানি ছাড়লে ফসল ও বসতভিটা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তিনি নিজে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। পলি অপসারণ ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ক্যানেলে পানি সরবরাহের চেষ্টা চলছে।