লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুর ও জামালপুরে ২ লাশ উদ্ধার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে ঘাতক সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা। অন্য দিকে ফরিদপুর ও জামালপুরে দুই লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ও রায়পুর সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৪০), তার বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত মেজো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায়।

ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা এক যুবককে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে। সেখানে তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো: কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে দুর্বৃত্তের হামলায় শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে শাহিনুর, সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা গেছেন। গুরুতর আহত অপর এক মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া গণপিটুনিতে আহত সন্দেহভাজন যুবকের মাথায়ও গুরুতর আঘাত রয়েছে।

পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামে পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪২) নামে একজনকে হত্যার পর লাশ সড়কের ওপর ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুমারকান্দা এলাকার সড়কে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্নসহ লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত পান্নু ফকির সালথা উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের রহমান ফকিরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে জমিজমা সংক্রান্ত একটি সালিস বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন পান্নু ফকির। সালিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাস্তার পাশের একটি পাটেেত তাকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকারীরা লাশ সড়কের ওপর ফেলে রেখে যায়।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য ইজিবাইক ছিনতাই ও চালককে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ লাগেজে ভরে জেলার ইসলামপুর উপজেলার বেনুয়ারচর এলাকার একটি মাছের প্রজেক্টের পাড়ে ফেলে দেয়া হয়। সোমবার (২২ জুন) মধ্যরাতে ইসলামপুর থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পরে নায়েব আলীর পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেন।

নিহত নায়েব আলীর ছেলে মামুন মিয়া বাদি হয়ে গত মঙ্গলবার ইসলামপুর থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই জানায়, জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে আসামিরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী নায়েব আলীকে হত্যা করে লাশ লাগেজে ভরে ফেলে দেয়। পরে ইজিবাইকটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় নাহিদুল নামে একজনসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার, নিহতের মোবাইল ফোন ও ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলোÑ সোলাইমান কবির, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, রাসেল হোসেন ও সাগর মিয়া। তাদের মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা সবাই মেলান্দহ উপজেলার বাসিন্দা।

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মো: শাহাদাত হোসেন (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাহাদাত হোসেন ওই এলাকার শামসুল হকের পালিত পুত্র। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের মত্তগ্রামের পাঠান বাড়ি সুপার মার্কেট সংলগ্ন সড়কে শাহাদাতের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে সকালের দিকে শ্রীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই এলাকার তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মত্তগ্রামের ওসমান গনির বাড়ির মসজিদে ফজর নামাজের সময় এক মুসল্লির মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ফোন চুরির সন্দেহে শাহাদাতকে বেঁধে রাখে এলাকাবাসী। পরে বিুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই শাহাদাতের মৃত্যু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। কয়েক বছর আগে চুরির অভিযোগে এলাকায় শাহাদাতের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগীরা। তবে এলাকার অনেকেই বলছেন, চুরির অভিযোগে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা উচিত নয়।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক মারা যায়। তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশ প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।