ইসির অধীনে এনআইডি রাখাসহ ইসির একগুচ্ছ প্রস্তাব ঐকমত্য কমিশনে

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের (এনআইডি) কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাবনা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কিছু সুপারিশের বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন মনে করে, ওই সব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ইসির স্বাধীনতা খর্ব হবে। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজের দফতরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রিয়াজ স্যারকে চিঠি দিয়েছি। চিঠিতে মতামত দেয়ার কারণ হচ্ছে ইসির ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। খর্ব না হলে তো পাঠাতাম না। কমিশনের ভিন্নমত প্রকাশ করার সুযোগ আছে, সেখানে মতামত দিয়েছি। আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি কার্ডের বিষয়ে আমাদের অভিমত হলো, এনআইডি আমাদের এখানে থাকা বাঞ্ছনীয়। কেননা, ২০০৭ সাল থেকে আমাদের অভিজ্ঞতা এবং স্কিলড করা হয়েছে। তাহলে এটা কেন নেয়া হবে? বরং এটাকে আরো কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, কলেবরটা কী করে বহুমুখী করা যায়, সেটা করতে হবে। আমরা এখন ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানকে সেবা দিচ্ছি, সার্ভিসের উপযোগিতা আছে বলেই তো দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের ৯-১০টি সুপারিশের বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়ে ঐকমত্য কমিশনের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে একটি স্বতন্ত্র কমিশন করার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, এটির প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশে আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের যে ফর্মুলার কথা বলা হয়েছে, সেটি হলে শহর অঞ্চলে আসন বেড়ে যাবে। ইসি সচিব বলেন, সংস্কার কমিশন নির্বাচনের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সার্টিফাই করার বিষয়ে একটি সুপারিশ করেছে। নির্বাচন কমিশন মনে করে, এটির প্রয়োজন নেই। কারণ, ফলাফলের যে গেজেট প্রকাশিত হয়, সেটি সার্টিফিকেশন।

নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা ও নির্বাচন কমিশনারদের শাস্তির বিষয়ে সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তাতেও ভিন্নমত জানিয়েছে ইসি। ইসি সচিব বলেন, এ জন্য একটি ব্যবস্থা এখনই রয়েছে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আছে।

তিনি বলেন, ইসির দায়বদ্ধতা ও কমিশনের শাস্তির বিষয়ে বলা হয়, ইসির শাস্তির ব্যবস্থা তো আছেই। শর্ত ভঙ্গ করলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা অন্যান্য আইন পরিবর্তনে এটা কতটুকু বাস্তবসম্মত। তিনি বলেন, অ্যাকাডেমিক দিক থেকে বিষয়টা যদি বলি- চাকরি শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পর আপনি বললেন আমি ওই নির্বাচনে শর্ত ভঙ্গ করেছি। তাহলে পাঁচ বছর পর আজ কোর্টে দৌড়াতে হবে এটার জেরে ঘানি টানার জন্য। দিস ইজ রেশনাল? এটা কি যৌক্তিক? আমি ইমিডিয়েট শর্ত ভঙ্গ করেছি, এটা এখনই বলেন।

আর নির্বাচন হচ্ছে এমনই পদ্ধতি যেখানে একজন জিতবেন, বাকিরা হারবেন। চার মাসের মধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে, এটিও সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

সংস্কার কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে, কয়টি বিষয়ে আপত্তি আছে? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপত্তি শব্দটির প্রতি আমার আপত্তি আছে। আপত্তি না, আমরা বলেছি আমাদের মতামত। আপত্তি বিষয়টা হলো জোরালো এবং বিষয়টাই ডিফারেন্ট। ইসি ভিন্নমত পোষণ করেছে।