কবর জিয়ারত শেষে জামায়াত আমির
হাদির দুশমনেরা কার্যত শত্রু বাংলাদেশেরই
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদির জনপ্রিয়তাই সম্ভবত কারো কারো সহ্য হয়নি। সে কারণেই ষড়যন্ত্র করে হাদিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। হাদির দুশমনেরা কার্যত বাংলাদেশেরই দুশমন। বিপ্লবীদের হত্যা করে তাদের চেতনাকে দমন করা যায় না; বরং তা আরো বিস্তৃত হয়।
গতকাল ফজর নামাজের পর শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করেন তিনি। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ের আপনজন ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। তিনি আজীবন ইনসাফ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা বলে গেছেন। হাদিরা নিজেদের সংস্কৃতির কথা বলতেন এবং কোটি তরুণের হৃদয়ে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। জামায়াত আমির বলেন, এই দেশ, এই জাতি আমাদের; দেশ এবং জাতির পাহারাদারি আমাদেরই করতে হবে। কোনো কালো চিলকে আমাদের ভাগ্যে আর চুরমারের সুযোগ দেবো না। এটাই ছিল তাদের অঙ্গীকার। তারা বলেছিল জীবন দেবো তবুও ‘চব্বিশ’ দেবো না। এটা কেন বলেছিল আমরা সবাই বুঝি। এটাই তাদের অপরাধ? তিনি বলেন, তারা কারো দিকে অন্যায়ের হাত বাড়ায়নি। কারোর ওপর জুলুম করেনি। হাদি আজীবন ইনসাফের কথা বলেছে। এমনকি এটাও বলেছে যে, আমি কোনো শত্রুর ওপরেও বেইনসাফি করতে চাই না এবং কেউ বেইনসাফি করুক সেটাও আমরা দেখতে চাই না।
হাদির খুনের বিষয়ে সরকারের তদন্ত কাজের ওপর জনগণ অসন্তুষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের দাবি আশা করি প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা মণ্ডলী সেখানে (হাদির জানাজা নামাজ) উপস্থিত ছিলেন তারা বুঝতে পেরেছেন। অতি দ্রুত সমস্ত সন্দেহ-সংশয়ের বাইরে এসে খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি খুনিরা পার পেয়ে যায় তাহলে আপনার আমার কারো জীবন নিরাপদ করা যাবে না। এ সময় আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মেডিক্যাল থানা সভাপতি ও ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা: এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফারহাদসহ জামায়ত ও শিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
দোয়া মাহফিল : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ওসমান হাদি আধিপত্যবাদ মুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম, ইনসাফপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। এ দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে পালনে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইয়ের অকুতোভয় বিপ্লবী যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাত উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সঞ্চালনায় মাহফিলে বক্তৃতা করেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো: সেলিম উদ্দিন, চাকসুর সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এবং শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মেজ ভাই ওমর বিন হাদি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ হৃদয়গ্রাহী বক্তব্য দেন। কিন্তু ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের ব্যাপারে কোনো কথাই বলেননি। ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের ব্যাপারে অবশ্যই বক্তব্য দেয়া উচিত ছিল। আমরা আশা করি, তিনি এ ব্যাপারে জাতির সামনে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করবেন। দেশবাসীর প্রশ্ন ওসমান বিন হাদির খুনিরা হামলার ছয় ঘণ্টা পর কিভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারল? কেন সরকার তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারল না? সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা কী করেছে? গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের সহযোগিতাকারী কেউ লুকিয়ে আছে কি না তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার জন্য সরকারকে যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি বলেন, অবিলম্বে ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের ব্যাপারে সরকারের সুস্পষ্ট বক্তব্য দাবি করছি। হাদির জানাজায় অংশগ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা যে ওয়াদা করেছেন তা অবিলম্বে পূরণ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
শহীদ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদি শাহাদতবরণ করেছে। ওসমান যে স্বপ্ন দেখত সেই স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। তার অসমাপ্ত বিপ্লব সমাপ্ত করতে এগিয়ে আসার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের পরিবার-পরিজন সবার কল্যাণের জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করছি।
রাজধানীর ইসলামবাগে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা : রাজধানীর ইসলামবাগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের চকবাজার মধ্য থানার উদ্যোগে গতকাল আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এফবিসিসিআইর পরিচালক হাজী এনায়েত উল্লাহ। চকবাজার মধ্য থানা আমির জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি ওহিদুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আবদুর রহমান ও শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ।