টাইগারদের লক্ষ্য সমতা, পাকিস্তানের সিরিজ

দ্বিতীয় টি-২০ আজ

জসিম উদ্দিন রানা
Printed Edition

সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-২০তে ফিরে আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।

প্রথম ম্যাচে ৩৭ রানে হারের পর তিন ম্যাচের সিরিজে টিকে থাকতে দ্বিতীয় ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ২-১ ব্যবধানের হতাশাজনক সিরিজ পরাজয়ের পর সব ভুল শুধরে ফিরে আসার প্রত্যয় নিয়ে পাকিস্তানে খেলতে গেছে টাইগাররা। আমিরাতের ম্যাচটি প্রেরণার হবে বলা হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন বিভাগের ব্যর্থতায় হোঁচট খেতে হয়েছে সফরকারীদের।

বাংলাদেশের লক্ষ্য সমতা থাকলেও পাকিস্তানের লক্ষ্য সিরিজ জয়। তৃতীয় ম্যাচের অপেক্ষা করতে চান না স্বাগতিক অধিনায়ক সালমান আলি আগা। ‘দলের সবাই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। কালই (আজ) তারা সিরিজ জেতার জন্য মুখিয়ে আছে। তবে বিষয়টি অত সহজ না-ও হতে পারে।’ অবশ্য পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমল জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তান এসব ছোটখাটো সিরিজ জিতে লাভ হবে না। দেশের বাইরে তাদেরকে বড় দলের বিপক্ষে জিততে হবে।’

এই পরাজয়ে টি-২০’তে পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ চার ম্যাচের সব ক’টিতেই হারের স্বাদ পেল। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০ ম্যাচের ১৭টিতেই হার টাইগারদের। প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ে পাকিস্তানও চাইবে দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিজেদের করে নেয়ার। শুধু ওপেনিং বাদে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান সব বিভাগেই সফল হয়েছে।

অধিনায়ক লিটন দাস ফিরে আসার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘পুরো ম্যাচে আমরা বোলিং, ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিং, কোনো বিভাগেই ভালো করতে পারিনি। আমি সেসব নিয়ে কিছু বলব না। তবে আমাদের শক্তভাবে ফিরে আসতে হবে। এখনো দু’টি ম্যাচ বাকি রয়েছে। শুধু ব্যাটিং, বোলিং নয়, টি-২০’তে ফিল্ডিংয়েও ভালো করা জরুরি। পুরো ম্যাচে আমরা সেটাও করতে পারিনি। এই পিচে ২০০ রান তাড়া করা সম্ভব। কারণ আউটফিল্ড অনেক ফাস্ট, ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটও সহায়ক।’

ম্যাচের শুরুতেই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে হারানোর পরও বাংলাদেশ দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে লিটন ব্যাটিংয়ে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে কভার ড্রাইভ চালিয়ে বোলারদের বিভ্রান্ত করে তোলেন, অন্য দিকে তানজিদ তামিম সাহসী ছিলেন, ইচ্ছামতো ছক্কা মারছিলেন। তার আউটের পর হৃদয় যদিও ম্যাচ কিছুটা ধীর করে দেন। কিন্তু অন্যপ্রান্তে লিটন ঠিকই রানের চাকা সচল রাখেন। তবে লিটন ফেরার পর বাংলাদেশ ৬৪ রানে শেষ সাত উইকেট হারিয়েছে।

মিডল ওভারে ব্যাটারদের আরো দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে বলে জানিয়েছেন লিটন দাস। জাকের আলি অনিক ছাড়া মিডল অর্ডারে কেউ-ই নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। ‘ইনিংসের মাঝামাঝিতে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। কিন্তু এসব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জাকের আলি গত এক বছর ধরে আসলেই ভালো খেলছে। এই মুহূর্তে মিডল অর্ডারে সেই আমাদের মূল খেলোয়াড়। কিন্তু কোনো একজন খেলোয়াড় ম্যাচ জেতাতে পারে না। সবাইকে দলীয় জয়ে অবদান রাখতে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘মানসিকভাবে আমাদের বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে। আমি মনে করি ক্রিকেট শুধু অনুশীলনের বিষয় নয়- এটাকে অনুধাবন করতে হবে। সবাইকে একসাথে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।’