মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা

শান্তিচুক্তি নস্যাতে তৎপর নেতানিয়াহু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

  • চুক্তি ভঙ্গ ও আগ্রাসনের জবাবে ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করল ইরান
  • আলোচনায় বসতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন আরাকচি ও উইটকফ
  • রাজনীতি থেকে নেতানিয়াহুর বিদায় চান ৫৯% ইসরাইলি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন ও একটি স্থায়ী আঞ্চলিক শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চরম অনিশ্চয়তা ও তীব্র সঙ্কটের মুখে পড়েছে। গত বুধবার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে শান্তির আশা জেগেছিল, তা এখন ফিকে হতে চলেছে। গত শুক্রবার বিকেলে লেবাননে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় গতকাল শনিবার দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় নজিরবিহীন ও প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যাতে অন্তত ১৬ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলের এই আগ্রাসী মনোভাব এবং চুক্তি লঙ্ঘনের কড়া জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সাথে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ৬০ দিনের নির্ধারিত শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে যে, রাজনৈতিক অস্তিত্বের স্বার্থে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করে দিতে যেকোনো কিছু করতে পারেন। একদিকে ইসরাইলি হামলায় রক্তাক্ত লেবানন, অন্য দিকে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের আলটিমেটাম- সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এখন এক চরম বিস্ফোরণোন্মুখ ও অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে।

ইসরাইলি হামলায় তছনছ যুদ্ধবিরতি

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪টায় (স্থানীয় সময়) মার্কিন ও কাতারি কূটনীতিকদের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের পরোক্ষ সহায়তায় ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। শনিবার ভোর থেকেই হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ লেবানন এবং পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকাজুড়ে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, শনিবারের এই নতুন হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে টায়ার জেলার বারিশ শহরে। সেখানে একটি তিন তলা আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের বাবা, মা এবং তাদের দুই সন্তান প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া কাফরুমান-নাবাতিয়েহ সড়কে ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবানন সেনাবাহিনীর একজন নিয়মিত সৈন্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত চিকিৎসক, নারী ও শিশুসহ মোট ৩,৯১২ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলকে হিজবুল্লাহ ও ইরানের হুঁশিয়ারি

মাঠপর্যায়ের এই ভয়াবহ লঙ্ঘনের পর হিজবুল্লাহ ও ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ রাতভর তাদের ওপর ৫০টির বেশি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট) নিক্ষেপ করেছে, যার জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের আলী আল-তাহের পাহাড় এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী ইসরাইলি বাহিনীকে প্রতিহত করেছে এবং দখলদারদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “লেবাননের মাটিতে ইসরাইলি বাহিনীকে কোনো ধরনের ‘ফ্রিডম অব মুভমেন্ট’ বা অবাধে চলাফেরা ও অভিযানের সুযোগ দেয়া হবে না।” হিজবুল্লাহ চুক্তি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে ইসরাইল যদি লেবাননের অঞ্চল দখল বা সীমানা বাড়াতে চায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।

এ দিকে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “খারাপ বিশ্বাস, চুক্তি লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত দাবির ক্ষেত্রে শত্রুকে চূর্ণকারী জবাব দিতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। যুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষ একবার ‘চড়’ খেয়েছে, আবার একই পথে হাঁটলে আরো কঠিন প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করাই আলোচনার অন্যতম প্রধান ‘রেড লাইন’।

‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করল ইরান

লেবাননে ইসরাইলি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্য তথা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে ইরান কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’ ও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হলো। শত্রুকে তার প্রতিশ্রুতি মানতে বাধ্য করতে যদি এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তবে সামনে আরো কঠোর ও বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী সচল হয়েছিল এবং বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। এমনকি তেহরান তাদের সদিচ্ছার অংশ হিসেবে ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের সমস্ত শুল্ক মওকুফ করেছিল এবং সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ফার্ম এএক্সএস-মেরিনের তথ্য অনুযায়ী রেকর্ড ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ একদিনে পার হয়েছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও জাপানি মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকার ও ক্রুদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের কথা নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু শনিবার ইরানের এই আকস্মিক ক্লোজার ঘোষণার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আবারো নতুন করে অস্থিরতা ও জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর ও তেহরানের অনড় অবস্থান

লেবাননের এই তীব্র সঙ্ঘাতের কারণে সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে নির্ধারিত শান্তি আলোচনার সময়সূচি নিয়ে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি পূর্বনির্ধারিত সফরটি স্থগিত করেছিলেন, তিনি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সাথে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ডে রওনা হতে পারব। তবে আপনারা জানেন, এটি সর্বদা একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সমন্বয় ও প্রটোকলের বিষয়।”

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, বুর্গেনস্টকে মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের আলোচনার জন্য তারা একটি ‘গোপন ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ’ বজায় রাখছে, তবে গোপনীয়তার স্বার্থে অংশগ্রহণকারীদের নাম বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না। এ দিকে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সমঝোতা স্মারকের ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর ধারাগুলো নিয়ে এখনো তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ধারা, যেখানে একে-অপরের সার্বভৌমত্ব ও লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, তা ইসরাইলি হামলার কারণে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যতক্ষণ না পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের স্থায়ী লিখিত আদেশ জারি করছে এবং ইরানি সীমান্ত থেকে মার্কিন সেনা সরানো হচ্ছে, ততক্ষণ আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। অন্য দিকে মার্কিন প্রশাসন চাপ দিচ্ছে যে, ইরানকে আগে তাদের ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দৃশ্যমান করতে হবে।

ট্রাম্পকে মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে এক চাঞ্চল্যকর ও জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার স্বার্থে এবং দেশের চরমপন্থী মন্ত্রীদের সন্তুষ্ট করতে মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তিকে যেকোনো উপায়ে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারেন।

চলতি বছরের শেষের দিকে ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহু দেশের জনগণকে বোঝাতে চান যে তিনি লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন না এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরো তীব্র করবেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের শান্তিস্মারক নিয়ে ইসরাইল অত্যন্ত অসন্তুষ্ট, কারণ এটি ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রাখার ইসরাইলি লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে একটি নতুন ম্যাপ প্রকাশ করে দেখিয়েছে যে, তারা দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদী অতিক্রম করে আরো গভীরে ‘নিরাপত্তা বাফার জোন’ তৈরি করছে এবং সেখানে নতুন হিলটপগুলো দখল করছে, যাতে ভবিষ্যতের আলোচনায় তারা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে।

নেতানিয়াহুর বিদায় চান ৫৯ শতাংশ ইসরাইলি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক চাপে ইসরাইলের অভ্যন্তরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ আকাশচুম্বী হয়েছে। দীর্ঘ সময় ইসরাইলের ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশের মানুষের ক্ষোভ এখন চরম পর্যায়ে।

ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল-১২’ পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপে অংশ নেয়া ৫৯ শতাংশ ইসরাইলি নাগরিক মনে করেন নেতানিয়াহুর অবিলম্বে রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়া উচিত এবং আগামী শরতের নির্বাচনে তার আর অংশ নেয়া উচিত হবে না। মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ তার পুনরায় নির্বাচনে লড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ৮ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি। গাজা, লেবানন ও ইরানে নির্বিচার হামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর নেতানিয়াহু এখন ঘরের ভেতরেই তীব্র রাজনৈতিক অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছেন।

সঙ্কট উত্তরণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা

লেবানন ও হরমুজ প্রণালীর এই ভঙ্গুর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণবিষয়ক মন্ত্রী মহসিন নাকভি ইতোমধ্যে তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন।

কায়রো ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তির স্থায়িত্ব রক্ষা করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক আজ রোববার মিসরের আলামিন শহরে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে মিলিত হতে সম্মত হয়েছে। লেভান্ত ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সামি নাদের আলজাজিরাকে বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি শুরু থেকেই অত্যন্ত ভঙ্গুর ছিল। আমেরিকা যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত, ইসরাইল একে অস্তিত্বের সঙ্কট ভাবছে, আর ইরান লেবাননকে তার জাতীয় নিরাপত্তার অংশ মনে করে। এই তিন ভিন্ন এজেন্ডার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে লেবানন এখন চড়া মূল্য দিচ্ছে।” বৈশ্বিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে আজ রোববার মিসরের এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।