সাত মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা
চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নতুন সরকার। বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ঘাটতি লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ ইতোমধ্যে অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মনে করা হচ্ছে- ল্যমাত্রার তুলনায় আদায়ের এই বড় ব্যবধান নতুন সরকারের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের ল্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গত জানুয়ারিতে ২৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আহরিত হবে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা, করবহির্ভূত রাজস্ব থেকে আসবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা।
এনবিআরের সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রাজস্ব আদায় করা অসম্ভব। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্য যে অবস্থা তাতে এই পরিমান রাজস্ব আদায় করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। অন্য দিকে নতুন সরকারকে রাজস্ব আদায়ের ল্য অর্জনে পাঁচ মাসে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি আদায় করতে হবে। ফলে অর্থবছরের শেষে রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ থেকে এক লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
এ দিকে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের ল্য ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। যদিও গত অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ, তবুও বিশাল ল্যমাত্রার সামনে তা অপর্যাপ্ত।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে ঘাটতি ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আমদানি পর্যায়ে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে ঘাটতি হয়েছে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।
আলোচ্য সময়ে আয়কর খাতের ল্য ছিল ১ লাখ তিন হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। অথচ আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। আমদানি শুল্কে আলোচ্য সময়ে ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা ল্য থাকলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। ভ্যাটের আদায়ই সবচেয়ে বেশি। আলোচ্য সময়ে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। অথচ এ সময় ল্য ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।
এ ছাড়া একক মাস হিসেবে গত জানুয়ারিতেও মন্দাভাব দেখা গেছে। এ মাসে ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা ল্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ কেবল এক মাসেই ঘাটতি হয়েছে সোয়া ১৫ হাজার কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায় বাড়ানো নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত আছে। সংস্থাটি ৫২০ কোটি টাকার ঋণের শর্ত হিসেবে প্রতি বছর জিডিপির আধা শতাংশের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের শর্ত দিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই শর্ত পূরণ করাও সহজ নয়।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য শ্লথগতি থাকায় রাজস্ব আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে। এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই আশা করা যায়, আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নতি হবে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে।