ইবি শিকিা হত্যার বিচারের দাবিতে শিার্থীদের বিােভ

Printed Edition
Nagar-3
ইবি শিক্ষিকা আসমা হত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করে শিক্ষার্থীরা : নয়া দিগন্ত

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে বিােভ করেছেন শিার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ বিােভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় তারা অনতিবিলম্বে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত এবং এর নেপথ্যের কারণ বের করার দাবি জানান। এর আগে সকাল ১০টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন শিার্থীরা। পরে সেখান থেকে বিােভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদণি করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সংপ্তি সমাবেশে মিলিত হন।

বিােভে শিার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘আমার ম্যাম হত্যা কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ম্যামের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’ ও ‘ইবি কেন রক্তাক্ত? প্রশাসন বিচার চাই’ স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হলো- অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করা, হত্যার নেপথ্যের কেউ থাকলে জবাবদিহিতায় নিয়ে এসে তার বিচার নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসের প্রত্যেক হল-ডিপার্টমেন্টে সিসি ক্যামেরা নিশ্চিত করা এবং তা সংশ্লিষ্ট দফতর এবং কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরণ করা, স্মার্ট আইডি ছাড়া কেউ ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না (ভ্যানওয়ালা দোকানদার সবাইকে আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা), ডেইলি বেসিস কর্মচারীদের নেমপ্লেট-সহ আলাদা পোশাকের ব্যবস্থা করা এবং তাদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্থা করা, বিভাগীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিষ্কার রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০২১-২২ শিাবর্ষের শিার্থী সাদিয়া সাবরিনা বলেন, আমরা ম্যামের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে এখানে এসেছি। ম্যাম আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন, একজন কর্মচারী কতটা উগ্র হলে রুমে ঢুকে তাকে হত্যা করতে পারে! এই ঘটনার সাী অনেকেই আছেন। তাই আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আমি একজন মানুষ হিসেবে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যদি আমি নিজেও এর সাথে জড়িত থাকি তাহলে আমি নিজেরও শাস্তি দাবি করি।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিকিাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ দিকে ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে তার লাশ নামাজে জানাজার উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ জোহর জানাজা শেষে তার লাশ পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়।