অনুগত নয়, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেয়া বিরোধী দল হবো : জামায়াত আমির
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে কোনো ‘অনুগত বিরোধী দল’ হিসেবে কাজ করবে না। তিনি বলেন, “আমরা অতীতের সেই কালচারে ফিরে যেতে চাই না, যেখানে শুধু বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করা হতো। আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব; সরকার ভালো কাজ করলে সমর্থন দেব, কিন্তু জনবিরোধী বা অন্যায় কোনো পদক্ষেপ নিলে তা কঠোরভাবে রুখে দেবো।” শুক্রবার সিলেটে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এবং ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিলেট নগরীর কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা: শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং মন্ত্রীদের কিছু কাঁচা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা সমাজকে অস্থির করে তুলছে এবং অপরাধীদের উসকে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ সঠিক পথে এগোতে পারবে না।’
দেশে বর্তমানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সরকারকে সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। সরকারি দলের কেউ যেন অপরাধীদের পাশে না দাঁড়ান। তারা যদি অপরাধীদের আশ্রয় দেয়া বন্ধ না করেন, তবে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা অসম্ভব হবে।” বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ এলাকা সিলেটে প্রথম আগমনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বিনয়ের সাথে বলেন, “আমি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে এখানে আসিনি, এসেছি শফিকুর রহমান হিসেবে। আমি আপনাদেরই একজন, আপনাদের মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো দলে বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের কল্যাণ ও মঙ্গলজনক সিদ্ধান্তই জামায়াত গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্য দিকে সিলেট নগরীর আমানুল্লাহ কনভেনশন হলে আয়োজিত সিলেট মহানগর জামায়াতের ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার যদি অপরাধ ও চাঁদাবাজি দূর করতে পারে, তবে পাঁচ বছরেই দেশ বদলে যাবে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সরকারকে এর মাশুল দিতে হবে।”
ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। ইফতার মাহফিলে জামায়াতের সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা, পেশাজীবী প্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
জাতিকে অন্ধকারে রেখে ভোটের ফলাফল বদলে দেয়া হয়েছে : অধ্যাপক মুজিব
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট গণনাকালে জাতিকে অন্ধকারে রেখে ফলাফল বদলে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেয়ার প্রতিবাদে আইনিভাবে এবং রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিকার প্রত্যাশা করবে জামায়াত।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, যে দলকে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, তাদেরকে পুনর্বাসন করা সেই আন্দোলনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। আজকে যারা গণভোটের ফল না মেনে সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেননি, তারা জনমত উপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছে একটি দল। তিনি আরো বলেন, দেশ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে বিরোধী দলগুলোর সাথেও আলোচনা করে এগোতে হবে। অন্যথায় বিগত সরকারের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, বর্তমান সরকারের অনেকের কথায় পতিত সরকারের সুর শোনা যাচ্ছে। বর্তমান বিরোধী দলকে গৃহপালিত বিরোধী দল মনে করলে ভুল করবে সরকার।
সভায় আরো বক্তৃতা করেন, দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী শেখ আল আমিন প্রমুখ। দারস পেশ করেন ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার।