ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল শিবির সংঘর্ষ, আহত ১৬
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে লতিফ ছাত্রাবাসে সংঘটিত সংঘর্ষে চারজন গুরুতর আহতসহ মোট ১৬ জন আহত হন।
জানা যায়, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগি¦তণ্ডা হয়। পরে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের জেরে রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে।
লতিফ হলের পাঁচ থেকে সাতটি কক্ষে ভাঙচুরের পাশাপাশি মোবাইলফোন ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির। দুই দলের সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের বেশ কিছু বহিরাগত হলে প্রবেশ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একপর্যায়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদেরকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয় তারা হলেন, ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ইমরান হোসেন (২১), ফুড টেকনোলজি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের মারুফ মিয়া (২০), মেকাট্রনিক্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের নুরুল হক (২২), ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আতিকুর রহমান (২২) ও কেমিক্যাল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মো: আরিফুল ইসলাম (২২)। আহত ইমরান হোসেন জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে অন্তত ১৬ জন আহত হন। পরে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি আরো জানান, রাত আড়াইটার দিকে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটেছে। মধ্যরাতে লতিফ ছাত্রাবাসে ছাত্রদের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এই ঘটনায় দুই দলই একে অপরকে দোষারোপ করছে। এ ঘটনায় ১৫ থেকে ১৬ জন আহত হয়। তবে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ আসেনি। তা ছাড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রশাসনও আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি।
সোমবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে তার ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেন, শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশী অস্ত্র নিয়ে লতিফ ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। কক্ষের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদলের একজন সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শিবিরের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা হবে। শিবিরের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। ছাত্রদলের রক্ত ঝরালে রক্তের বদলা নেয়া হবে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ছাত্রদলের রক্ত ঝরেছে। বিগত দেড় বছর প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল মবের শিকার হয়েছে। আজও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের রক্ত ঝরল। অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে। আর ছাড় দেয়া হবে না।
অন্যদিকে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ঘটনা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম তার ফেসবুকে একটি পোস্ট বলেন, ঢাকা পলিটেকনিকে রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবিরকর্মীদের ওপর রামদা, রড ও দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। একদিকে খুন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজিতে জনজীবন বিপর্যস্ত, অন্যদিকে ক্যাম্পাসগুলোতে চলছে ছাত্রলীগীয় কায়দায় হামলা ও দখলদারত্ব। আর প্রশাসন বরাবরের মতোই সেই পুরনো চাটুকারের ভূমিকায় লিপ্ত। সরকারকে অবিলম্বে নিজেদের দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সামলাতে বলেন তিনি। নইলে ক্যাম্পাসে সবার সহাবস্থান বিঘিœত করে আবার দখলদারত্ব ও সহিংসতা কায়েমের জন্য সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
ঢাবি ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে হলপাড়া ও মধুর ক্যান্টিন প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে সভাপতি মহিউদ্দিন খান বলেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের অফিস পুনরায় চালু হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের আস্ফালন বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে বিএনপি-ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত দেখা গেলেও বর্তমানে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরো বলেন, হামলা করে তার দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা নতুন নয়; অতীতেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ধরনের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে, যার পুনরাবৃত্তি গতকাল দেখা গেল।
সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিক বলেন, রমজানে শয়তান তার কাজ বন্ধ রাখলেও ছাত্রদল তার কাজ ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হল দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যে পরিণতি হয়েছিল সেই পরিণতি ছাত্রদলেরও হবে। আমরা রাজপথে নামলে আপনাদেরও আরামের গদি ছেড়ে রাজপথে নেমে আসতে হবে, আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।
সমাবেশ থেকে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।