আল-হাইআতুল উলয়ার বিবৃতি

কুরআন শিক্ষা বোর্ডের দাওরাকে আলাদাভাবে মাস্টার্স সমমান প্রদানের যৌক্তিকতা নেই

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের দাওরাকে আলাদাভাবে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি প্রদানের সুযোগ প্রয়োজন কিংবা যৌক্তিকতাও নেই মনে করেন আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। গত মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত সভায় তারা এ বক্তব্য তুলে ধরেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সনের ৪৮নং আইনে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশকে ক্ষমতা প্রদান করেছে, তাই আইন অনুসারে দাওরায়ে হাদিস সম্পর্কে কিছু করার সুযোগ মন্ত্রণালয়ের নেই। আইনে উল্লিখিত ছয়টি বোর্ডের বাইরে নতুন কোনো বোর্ডকে আল-হাইআতুল উলয়ার অন্তর্ভুক্ত করারও সুযোগ নেই।

আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের লিখিত বক্তব্যসহ কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান এবং ছয় বোর্ডের প্রতিনিধিগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা মাহফুজুল হক। তিনি বলেন, যেহেতু (ক) আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আইন, ২০১৮” এর ধারা ৪-এ ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন অনূর্ধ্ব ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থাকবে মর্মে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। (খ) ধারা ৮ এর ধারা ৪ এ উল্লিখিত ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন বোর্ডগুলোর মাধ্যমে ধারা ৬ এ উল্লিখিত কমিটি দ্বারা নিবন্ধিত কওমি মাদরাসাগুলোতে দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে মর্মে উল্লিখিত হয়েছে; এবং (গ) ধারা ৯ এ উল্লিখিত হয়েছে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর কমিটি (ক) কওমি মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করবে; (খ) দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হবে; (গ) দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর পরীক্ষা গ্রহণ ও তত্ত্বাবধান; এবং (ঘ) দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফলাফল ও সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে; তাই ছয় বোর্ডের প্রতিনিধিগণ মনে করেন ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড’ এর দাওরাকে মাস্টার্স সমমান প্রদানের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, যেহেতু ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড’ এর সকল দাওরা মাদরাসা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে আল-হাইআতুল উলয়ার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) পরীক্ষা দিয়ে আসছে, ২০২৬ সনের চলমান পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করছে এবং মাস্টার্স সমমানের সনদ পেয়ে আসছে, তাই আলাদাভাবে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি প্রদানের প্রয়োজনও নেই, যৌক্তিকতাও নেই। অতত্রব, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এবং এর অধীন ছয়টি বোর্ড মনে করে, ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড’ এর দাওরাকে মাস্টার্স সমমান প্রদানের আলোচনা যথার্থ নয়।

সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষে কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান এবং ৬ বোর্ডের পক্ষে মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা এনামুল হক (সিলেট), মুফতি এনামুল হক (বসুন্ধরা), মুফতি মোহাম্মদ আলী এবং মাওলানা মু: অছিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০১৭ সনে আল-হাইআতুল উলয়া গঠনকালে আইনে উল্লিখিত ছয় বোর্ড ব্যতীত অন্য কোনো বোর্ডের আল-হাইআতুল উলয়ায় অন্তর্ভুক্তির আবেদনও ছিল না এবং প্রেক্ষাপটও ছিল না। সভায় মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের দাওরায়ে হাদিস, ফজিলত ও সানাবিয়্যা উলয়া স্তরের মাদরাসাগুলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের অধিভুক্ত, তাই বেফাক আগামীতে তাদের সাথে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়াবে।